Tuesday, February 26, 2013

জেগে থাকে শাহবাগ, জেগে থাকে বাংলা!


আমাদের ধমনীতে শহীদের রক্ত/ এই রক্ত কোনোদিন/পরাভব মানে না…
০১.শাহবাগের মোড়– প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনটি একটি বারুদের স্তুপে স্ফুলিংগ সংযোগ সূচনায় গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার আন্দোলন । সেখান থেকে গণজাগরণ, গণ বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রথমদিকে আন্দোলনটি শুধু কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠে। ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তরুণদের আহ্বানে খুব শিগগিরই এতে ব্যপক সাড়া মেলে; কারণ সচেতন নাগরিকরা কাদের মোল্লার মতো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, শীর্ষ জামাত নেতার শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় মেনে নিতে পারেননি। 

Friday, February 15, 2013

আমাদের সময়ের নায়কেরা-০২

‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়’…। কবি হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ র অমর কবিতা। দ্বিতীয় প্রজেন্মের চলমান মুক্তিযুদ্ধে কবিতাটির অক্ষরগুলো যেনো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৯০ এর জে. এরশাদ সরকার বিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে অসংখ্য গণআন্দোলনে, মিছিলে, মিছিলে, গণসমাবেশে, দেওয়াল লিখনে, আন্দোলনের মঞ্চে অসংখ্যবার উদ্ধৃত হয়েছে এই অজয় কবিতা। শাহবাগের মোড় — প্রজন্ম চত্বরকে ঘিরে সারাদেশে চলমান গণজাগরনের মঞ্চগুলোতেও পাঠ হচ্ছে উদ্দীপনী এই কাব্যগাঁথা।

Sunday, February 10, 2013

স্লোগান-কন্যা লাকী:: একাত্তরই আমার প্রেরণা


ছোটখাটো গড়নের শ্যামলবরণ মেয়েটির নাম লাকী। পুরো নাম লাকী আক্তার। অবিরাম নানা সংগ্রামী স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন শাহবাগের 'স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বর'। এরই মধ্যে 'স্লোগান-কন্যা' হিসেবে তাঁর নাম রটে গেছে। মাইক্রোফোন হাতে খেপা বাউলের মতো নেচে নেচে স্লোগান দেন লাকী। তাঁর স্লোগানেই টানা পাঁচ দিন ধরে প্রদীপ্ত তারুণ্যের চেতনার মশাল। জোরালো কণ্ঠে জ্বালাময়ী এত সব স্লোগান আসে কোথা থেকে?
লাকী বলেন, '১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আর অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা আমি ঢেলে দিই স্লোগানে। '৭১ থেকেই প্রেরণা পাই। ছাত্র-জনতাই আমার স্লোগানের শক্তি।'

Friday, December 21, 2012

বর্ণবাদী বিজ্ঞাপনের অন্তরদর্শন



০১. সারা পৃথিবীতে ‘টারজান’ চরিত্রটি কমিক্স বই, উপন্যাস, সিনেমা ও কার্টুন ছবিতে প্রায় একশ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে নিজস্ব জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। ছোট বেলায় ’টারজান’ বা তার প্রেমিকা ’জেন’ হতে চায়নি, এমন বালক-বালিকা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

Tuesday, November 27, 2012

আর কতোকাল?


বাতাসে পোড়া লাশের গন্ধ। স্কুলের বারান্দায় সারিবদ্ধ প্রায় একশ মরদেহ সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে। পুড়ে কয়লা হয়ে গেছেন, ক্ষুদ্র আকৃতির হয়ে গেছেন একেকজন শ্রমিক। স্বজনরা তারপরও প্রিয় মুখটি চেনার চেষ্টায় মরিয়া। মন শক্ত করে, নাক-মুখ চেপে একেকটি ব্যাগের চেইন সরিয়ে উঁকি দিচ্ছেন তারা। রাতভর কান্না, আহাজারি, বুক ফাটা আর্তনাদের পর অনেকের চোখেই আর পানিও নেই। শুধু বোবা কান্নার শব্দ, তীব্র বেদনায় দৃষ্টি যেন ভাষাহীন।
 

গত রবিবার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। আগের দিনই [শনিবার, ২৪ নভেম্বর] পাশের তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টে জীবন্ত পুড়ে ছাই হয়েছে শতাধিক শ্রমিক। নিহতদের অধিকাংশই নারী। ...

পবিত্র আশুরার ছুটি উপেক্ষা করে তথ্য-সাংবাদিকতার পেশাগত কারণে সকাল নয়টা নাগাদ পৌঁছানো গেছে ঘটনাস্থলে। একেবারে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শন না করলে সে বেদনার তীব্রতা বোঝা সত্যিই খুব দুস্কর। স্কুলের মাঠজুড়ে হাজারো শোকার্ত মানুষের ঢল।

Friday, November 23, 2012

রবীন্দ্র চিঠিতে আত্নকথন


[২০০৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে পাওয়া গেছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছয় পাতার একটি দীর্ঘ চিঠি। এটিই এ পর্যন্ত পাওয়া কবির সর্বশেষ অপ্রকাশিত পত্র। চিঠিতে তারিখ দেওয়া আছে, ১৩০৭ সালের ২৮ ভাদ্র। কিন্তু সুনির্দষ্টভাবে কারো নাম উল্লেখ করে চিঠিতে কাউকে সম্বোধন করা হয়নি। তাই কবি এই চিঠিটি কাকে লিখেছিলেন, তা এখন গবেষণার বিষয়। রবীন্দ্রনাথের এই অপ্রকাশিত চিঠিটি তাঁর পাচক পতিসরের কবিজ উদ্দিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এতে কবি তুলে ধরেছেন তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্মের কথা। নওগাঁর ছোটকাগজ 'অঞ্জলি লহ মোর' এর জানুয়ারি-জুন, ২০০৯ সংখ্যায় কবির চিঠিটির হাতের লেখার ইমেজ প্রকাশিত হয়। চলতি ব্লগপোস্টে প্রকাশিত কবির চিঠিটি সেখান থেকেই নেওয়া। বানানরীতিসহ চিঠির বয়ান অবিকল রাখা হয়েছে।]

Wednesday, October 24, 2012

অন্তর্জালে জ্যোতির্ময় চাকমা ভাষা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করেন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী পাহাড়ি চাঙমা বা চাকমা । তাদের রয়েছে হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য, রীতি-নীতি ও সংস্কৃতি; সমৃদ্ধশালী উপকথা, লোকগীতি, ছড়া, প্রবাদ-প্রবচন ও সাহিত্য।

বহু বছর ধরে এই ভাষায় লেখা হচ্ছে অসংখ্য কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ; রাঙামাটির জুম অ্যাস্থেটিক কাউন্সিল (জাক) কয়েক বছর আগে চাকমা ভাষায় মঞ্চ নাটক করে দেখিয়ে দিয়েছে, এই ভাষাতে ভালোমানের নাটক সৃষ্টি করাও সম্ভব।

Friday, October 19, 2012

ভূতেরাই এখন সর্ষের চাষ করছে!

০১. যতোই দিন যাচ্ছে বেরিয়ে আসছে কেঁচো, সাপ এবং অ্যানাকোন্ডা। দৃশ্যত:ই রাঙামাটির সঙ্গে রামু’র সহিংসতার প্রেক্ষাপট ও ধরণ ভিন্ন। আবার দর্শনগত দিক তলিয়ে দেখলে এর মূল ইন্ধনদাতা রাজনৈতিক শক্তি/আস্কারাটির রসুনের গোঁড়া অভিন্ন।

খবরে প্রকাশ, রামুর বৌদ্ধ জনপদে হামলায় জোরালো ও মূল ভূমিকা রাখে জামায়াতে ইসলামী। তারা কৌশলে ব্যবহার করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। আর ওই তাণ্ডব চালাতে টাকাপয়সার জোগান দেয় রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরএসওসহ কয়েকটি এনজিও।

Wednesday, October 10, 2012

রাগিব হাসানের আলোর ইস্কুল

সহ-ব্লগার রাগিব হাসান সর্ম্পকে নতুন করে তেমন কিছু বলার নেই। বাংলাদেশের গৌরব ড. রাগিব হাসান পেশায় একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত। তাঁর গবেষণার বিষয় কম্পিউটার নিরাপত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিং। ২০০৬ সাল থেকে তিনি বাংলা উইকিপিডিয়াতে কাজ করছেন।

সম্প্রতি তারই উদ্যোগে আন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলা ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলো। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মাত্রই জানেন, উচ্চতর জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় বাংলা ভাষায় বইপত্রের বেশ অভাব, কিছু ক্ষেত্রে প্রায়ই তা ইংরেজি বইয়ের হুবহু অনুবাদ। খটমটে অনুবাদের এসব বই শিক্ষার্থীর জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর বদলে অনেক সময়ই বিজ্ঞানকে করে তোলো আরো ভীতিকর। আবার আন্তর্জালে প্রকাশিত বিজ্ঞানের নানা তথ্য ও জার্নাল অধিকাংশই বিদেশি ভাষায়। বিভিন্ন কঠিন অভিধা এবং জটিল তথ্য-উপাত্তে সেসব প্রায়শই শিক্ষার্থী-গবেষকদের কাছে দুর্বোধ্য ঠেকে। অনেক ক্ষেত্রে নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত আন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করতে আগ্রহীদের ক্রেডিট কার্ডে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের অর্থ।

Monday, August 27, 2012

চলেশ রিছিল: লাল সেলাম

[বাবা পড়ে আছে মর্গে / লালমোহনের মেয়ের মাধ্যমিক /পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষিত করগে /'এনকাউন্টার' হলো কী বাস্তবিক?...সুমন কবিরের গান]

পাহাড়ি আদিবাসী নেত্রী কল্পনা চাকমার মতোই চলেশ রিছিল এখন টাঙ্গাইলের মধুপুরের গারো ও কোচ আদিবাসী অধ্যুষিত শালবনের অমিংমাসিত অধ্যায়।

বছর আটেক আগে মধুপুরের শালবন গর্জে উঠেছিলো বন বিভাগের একতরফা ইকো-পার্ক প্রকল্পের বিরুদ্ধে। সে সময় আদিবাসী নেতা চলেশ রিছিল আদিবাসীদের সংগঠিত করেন ইকো-পার্ক প্রতিরোধ আন্দোলন।

এ জন্য পাঁচ বছর আগে যৌথবাহিনীর ‘এনকাউন্টারে’ জীবন দিতে হয় তাকে। আন্দোলনের সময়ই পুলিশ ও বনরক্ষীদের গুলিতে প্রাণ যায় পিরেন স্নাল নামক আরেক আদিবাসী নেতার। পিরেনের রক্তের বিনিময়ে সে সময় বাতিল হয় ইকো পার্ক প্রকল্প। কিন্তু বাতিল এ প্রকল্পের বন মামলার দায় এখনো বহন করে চলেছেন মৃত চলেশ। এ মামলায় ‘গরহাজির’ থাকায় সম্প্রতি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সমনও জারি করেছেন!