Saturday, May 2, 2009

প্রেস জোকস


[গণমাধ্যমে প্রায়ই মজার মজার কিছু সত্যি ঘটনা ঘটে। এ সব কখনো কখনো প্রচলিত হাস্য কৌতুককে হার মানিয়ে দেয়। আবার এসব প্রেস জোকসের নেপথ্যে থাকে কষ্টকর সাংবাদিকতা পেশাটির অনেক অব্যক্ত কথা। এমনই কিছু বাস্তব ঘটনা নিয়ে এই 'প্রেস জোকস' পর্ব। রীতিমত প্রাপ্তমনস্কদের জন্য রচনা।]
ট্যাক্স ফ্রি
বিখ্যাত ফটো সাংবাদিক মোহাম্মাদ আলম (কিছুদিন আগে প্রয়াত) ভাইয়ের ঘটনা। ১৯৭২-৭৩ সালে আলম ভাই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী। পানপ্রিয় আলম ভাই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সাথে মস্কো সফর শেষে দেশে ফেরার সময় সাথে নিয়ে এসেছেন এক বোতল রাশান ভোদকা। তো তেজগাঁ বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা কিছুতেই তাকে ছাড়বেন না। তারা ভোদকার জন্য ট্যাক্স দাবি করে বসলেন। এদিকে আলম ভাই কর্পদশুন্য।

Wednesday, April 8, 2009

একটি রোমহর্ষক গণহত্যার কাহিনী

(ফুন্দুরী রাঙ্গা ঝুরবো ফেগ, তম্মা মইলে মুইদো এজ…চাকমা ছড়াগান…রাঙালেজের কান্ত পাখি, তোমার মা মারা গেলে আমার কাছে এসো…)
০১। কোনো পেশাগত কারণে নয়, স্রেফ বেড়াতে যাওয়ার জন্যই সেবার পাহাড়ে যাই চাকমা আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বিঝুর আমন্ত্রণে। ১৯৯২ সালের ১১ এপ্রিল সকালে কলাবাগান থেকে বিশাল দলবলসহ লক্কড়-ঝক্কড় বাস ‘ডলফিন’ ছাড়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে। সেটা শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরেরও বছর পাঁচেক আগের ঘটনা [লিংক]। পাহাড় তখন দারুন অশান্ত, যুদ্ধ — বিক্ষুব্ধ। জনসংহতি সমিতির সাবেক গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী বন্দুক যুদ্ধ লেগেই আছে [লিংক]

Saturday, February 21, 2009

শিরোনামহীন


চাকরিটা আমি ছেড়ে দিয়েছি, বেলা শুনছো?...অবশেষে আরটিভির সামান্য বেতনের উঁচু পদের গ্লানিময় বস্তিবাস-জীবনের অবসান ঘটেছে। সেদিন সুন্দর এক সকালে অফিসে ঢুঁকে আমার ডেস্কের ডেল-কম্পিউটারে দ্রুত টাইপ করে ফেললাম পদত্যাগপত্র।
'বরাবর, চেয়ারম্যান, আরটিভি। বিষয়: পদত্যাগপত্র।

Tuesday, November 18, 2008

১০০

পূর্বকথন    

একদিন বলেছিলে, ভগবান নাকী ১০০ জন। আমি বুঝেছি, প্রেম আর বিচ্ছেদ ১০০ রকম। ভালোবাসা-মন্দবাসার পাস নম্বরও ১০০। তারপর ১০০ রক্তজবার বীজ বুকে নিয়ে ১০০ কোটি মাইল ছুটে চলা। আর গানিতিক নামতা শেখা: ১০০, ১০০, ১০০...

Friday, October 3, 2008

বস্তিবাস

প্রাক-কথন, ক: উভ
প্রাক-কখন, খ:একটি গুরুতর হত্যা মামলার এজহার
___________
০১. তুমি অফিসকে বরাবরই গ্রাম বলে জেনে এসেছ।  

না, শষ্য-শ্যামলা সুজলা-সুফলা গ্রাম বা এ সব গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কথা হচ্ছে না। এখানে বলা হচ্ছে, শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় কথিত নানান গল্পকথায় যে গ্রাম্য জীবনের কুটিল মানুষের জটিল জীবন-কথা ফুটে উঠেছে, তারই কথা।
এখন মিডিয়া পাড়ায়, অফিসে অফিসে ঢুকে পড়েছে এই সব গ্রাম্যতা, আর ভিলেজ পলেটিক্স। একেকটি বড় মিডিয়া হাউজ মানেই তোমার ভাষায়, একেকটি বড় গ্রাম।

Thursday, October 2, 2008

ঈদ, এসএমএস, ইত্যাদি

কাল দুপুর থেকে গভীর রাত,পরে ঈদের ভোর থেকে এই এখনো, মোবাইল ফোন উপচে পড়ে একের পর এক এসএমএস তথা ঈদ মোবারক-বার্তায়। 

বছর দশেক ধরে মোবাইল রিং টোন-এর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সাইলেন্স মুড সব সময়। প্রায়ই অতি জরুরি কল থেকে যায় নাগালের বাইরে, কখনো ব্যস্ততায়, আবার কথনো অবহেলায়। তো মিসড কলগুলোকে বেছে বেছে আবার জবাবহিদিসহ ব্যাক করা হয় বটে।

Tuesday, August 5, 2008

একটি গুরুতর হত্যা মামলার এজহার...

বরাবর,
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
তেজগাঁও থানা, ঢাকা।

বিষয়: হত্যা মামলার এজহার দায়ের।
জনাব,

আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী নিজে থানায় উপস্থিত হইয়া এই মর্মে এজহার দিতেছি যে, আমি সম্প্রতি রিপোর্টার নাম ঘুচাইয়া একটি টেলিভিশন চ্যানেলে পোর্টারের পদে বহাল হইয়াছি। ইহা পদোন্নতি না পদাবনতি তাহা কর্মফল না দেখিয়া এখনই বলা যাইতেছে না।

Monday, June 16, 2008

একটি নিউজ স্ক্রিপ্টের খসড়া...

রেইন-প্যাকেজ-অমুক
বর্ষার কদম ফুল ফোটার দিন শুরু হলো অবশেষে। আর তাই প্রকৃতিতে যেনো লেগেছে সাজ সাজ রব। এমনি দিনে অনেকে ফিরে যান ছেলেবেলার বাদলা দিনে। ক্যামেরায় রমেশ চৌধুরিকে সাথে নিয়ে, স্মৃতি জাগানিয়া এ সব অনুভূতির কথা জানাচ্ছেন ....।

Monday, May 19, 2008

উভ

০১. তীব্র তাপহাদের ভেতর নাগরিক কোলাহলমুক্ত হিম হিম ঠাণ্ডা একটি ঘর। এক দিকের দেয়াল জুড়ে সার সার টেলিভিশন, সব ক'টিতে এক সঙ্গে দেশি-বিদেশি সংবাদ প্রচার হচ্ছে। আরেক দিকে এইচপি কম্পিউটারে মুহূর্তে টাইপ হচ্ছে দারুন সব তাজা খবর। 

এরপর নিউজ স্ক্রিপ্টগুলো ঠিকঠাক করে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় উভ (আউট অব ভিশন) বা ফুটেজ আর কমেন্ট/বাইটসহ উভ-সিংক বা প্যাকেজ তৈরি করা।...

রানডাউন...ঘড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংবাদক্রম সাজানো, স্টেশন পলিসি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ। একেবারে শেষ সময়ে অন এয়ারে ধরিয়ে দেওয়া তারকা সাংবাদিকের ব্রেকিং বা হার্ট ব্রেকিং নিউজ। ...রান, রান অ্যান্ড রান।...

Tuesday, May 6, 2008

গুডবাই শফিক রেহমান...


কাল রাতে দৈনিক যায় যায় দিন থেকে পদত্যাগ করলেন সম্পাদক শফিক রেহমান। বলতে দ্বিধা নেই, একই সঙ্গে পেশাদার সাংবাদিকরা আপাতঃ হাফ ছেড়ে বাঁচলেন এক মিডিয়া-ড্রাগনের খপ্পর থেকে।

এ নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শফিক রেহমান ইনিয়ে বিনিয়ে আজকের যাযাদিতে অনেক নাকি কান্না কেঁদেছেন। তার আপোষহীন চরিত্রের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্টোর রুম ঘেঁটে তুলে এনেছেন ৯০ দশকের সাপ্তাহিক যাযাদির কয়েকটি আলোচিত প্রচ্ছদচিত্র ।