Wednesday, July 25, 2018

শিরোনামহীন


তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ নাটক, বেইলি রোড) -- ইত্যাদি।
আমরা যাহারা কচিকাঁচার দল, ইঁচড়ে পাকা বলিয়া খ্যাত, তাহাদের তখনো অক্ষরজ্ঞান হয় নাই। তাই বইপত্র গিলিবার কাল খানিকটা বিলম্বিত হইয়াছিল। মূদ্রিত বিজ্ঞাপনের বিজ্ঞানটুকু বয়ান করিব যথাসময়ে। ভূমিকাপর্বে সংক্ষিপ্ত বাল্যকাল পরম্পরা সারিয়া লই।

Saturday, June 23, 2018

আমার লেখা অনুবাদ করার সময় এসে গেছে – ছফা [পুনর্পাঠ]



[নয়ের দশকে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ সরকারের পতন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। সেই রক্তাক্ত আন্দোলনের শ্লোগানার, কমরেডের লাশ ও লিটল ম্যাগের ভুত মাথার ভেতর বয়ে বেড়ানোর কালে সাংবাদিকতার প্রথম পাঠে মুখোমুখি হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল কয়েক গুনিজনের। তারা ছিলেন আমাদের সময়ের নায়ক।

Tuesday, June 5, 2018

আব্বু, তুমি কান্না করতেছ যে?


বাংলাদেশের দৃষ্টি এখন দেশের পূর্ব-দক্ষিণের সর্বশেষ প্রান্তে, সাগরপাড়ে কক্সবাজারের টেকনাফে। আ্ওয়ামী লীগ সরকারের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে গত ২৬ মে রাতে সেখানে র‌্যাব-পুলিশের কথিত ‘ক্রসফায়ারে‘ নিহত হয়েছেন সহযোগি সংগঠন যুবলীগ নেতা ও পৌর কমিশনার একরামুল হক। 
৩১ মে একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার স্বামীকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এরপর তিনি গণমাধ্যমে উপস্থিত করেন মৃত্যুর একেবারে শেষ সময়ে একরামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার ও কিশোরী কন্যার কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ। 
রক্ত হিম করা এই অডিও ক্লিপ এখন ভাইরাল হয়ে নড়িয়ে দিয়েছে, এদেশের মানবিক রাষ্ট্রের ধারণাকে।
 

Saturday, May 5, 2018

পাহাড়ে পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করা বন্দুক

পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণাধারায় নয়নাভিরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন সাম্প্রতিক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সহিংস, রাজনৈতিক সংঘাতময়। পাহাড়ি-অভিবাসী বাঙালি (সেটেলার) দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মূল রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে সেখানের পাহাড়ি আঞ্চলিক দল-উপদলগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত এখন উদ্বেগ মাত্রায় পৌঁছেছে। ভাতৃঘাতী হত্যার হিংসার রাজনীতির বিপরীতে চলছে পাল্টা হত্যার প্রতিহিংসার রাজনীতি।

Sunday, April 29, 2018

সাংগ্রেং—সাগরপারের আদি রাখাইন উৎসব

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে সাগর পারের পর্যটন নগরী কক্সবাজার। এটি বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, টানা ১৫৫ কিলোমিটার (৯৬ মাইল) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই সমুদ্রপাড় থেকে একইসঙ্গে বিস্ময়কর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়, যা এই বঙ্গোপসাগরের বালুকাভূমিকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের নাম এখন বিশ্ব পর্যটনের ভূচিত্রে খুবই উজ্জ্বল নক্ষত্র।

Friday, March 9, 2018

রণাঙ্গনের সৈনিক (ফটো পোস্ট)


সিরাজগঞ্জ, ২৪ মার্চ ১৯৭১। ছাত্রী সংগ্রাম পরিষদ ও মহিলা সংগ্রাম পরিষদের বিশাল মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন (মুখের কাছে হাত গোল করে শ্লোগান রত) সৈয়দা এলিজা শিরাজি, মঞ্জু।

Friday, February 23, 2018

তবে বলো, জিতলো কে জন্মভূমি?


রাঙামাটির দূর পাহাড়ে দুই মারমা আদিবাসী বোন ধর্ষণ ও যৌন হয়রানীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনী একের পর এক ন্যাক্কারজনক যে ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে, তাতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পর্যটনের নিঃস্বর্গভূমি রাঙামাটি কী ডাকাতদের গ্রাম? সেখানে কী জঙ্গলের শাসন চলছে?
সবশেষ ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিরাপত্তা বাহিনী বাতি নিভিয়ে চাকমা রাণী য়েন য়েন ও তার সহযোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবীদের মারপিট করে হাসপাতাল থেকে দুই মারমা বোনকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা হতবাক করে দিয়েছে শুভবুদ্ধির মানুষদের। ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে পাহাড় থেকে সমতলে।

Wednesday, December 27, 2017

পাহাড়ি জীবনের আঁধার

বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদে কোনো সুখবর নিয়ে আসেনি ২০১৭ সাল। বরং এটি ছিল সব ধরনের শোষণ-নিপীড়নের শিকার আদিবাসী পাহাড়িদের জন্য তীব্র বঞ্চনার আরো একটি বছর।
কল্পনা চাকমা থেকে রমেল চাকমা
১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাঙামাটির বাঘাইছড়ির নিউ লাইল্যাঘোনা থেকে

Tuesday, December 5, 2017

শান্তিচুক্তির ২০ বছর: পাহাড়ে শান্তি হবে কবে?


আদিবাসী পাহাড়ি অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার মূলে রয়েছে ভূমি। আর পাহাড়ের ভূমির সমস্যার সমাধানে পার্বত্য শান্তিচুক্তির আলোকে প্রায় দেড় যুগ আগে গঠিত হয়েছিল ভূমি কমিশন। কথা ছিলো, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এ কমিশন পাহাড়ে আদিবাসী পাহাড়ি ও বাঙালি স্থায়ী বাসিন্দাদের ভূমির সমস্যার সমাধান করবে, স্থাপন করবে শান্তি। কিন্তু খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, এখনো এ কমিশন রয়েছে কাগুজে। ফলে সেখানে পাহাড়ি- সেটেলার বাঙালির ভূমির বিরোধ বাড়ছেই। শান্তিচুক্তির এই মৌলিক শর্তসহ আরো কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা রয়েছে এখনো অধরাই।

Tuesday, October 17, 2017

রংচুগালা: বিপন্ন আদিবাসী উৎসব



[ওই ছ্যাড়া তুই কই যাস, কালা গেঞ্জি গতরে?/ছেমড়ি তুই চিন্তা করিস না, আয়া পড়ুম দুপুরে/ হা রে রে, হা রে রে, হা রে রে…ভাবানুবাদ, গারো লোকসংগীত “রে রে”।]
কিছুদিন আগে গারো (মান্দি) আদিবাসী লেখক সঞ্জিব দ্রং আলাপচারিতায় জানাচ্ছিলেন, প্রায় ১২৫ বছর আগে গারোরা আদি ধর্ম প্রকৃতিপূজা (সাংসারেক) ছেড়ে দলে দলে খ্রিস্টান হতে শুরু করেন। সে সময় গারোদের হাজার বছরের প্রাচীন সাংসারেক ধর্মটি বিপন্ন হয়ে পড়ে, একই সঙ্গে গারোদের ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানা উৎসবও পড়ে হুমকির মুখে।