Thursday, December 15, 2011

পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধ: অন্য আলোয় দেখা





[সাবেক চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধকে বহুবছর ধরে বিভ্রান্তির ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে। খাটো করে দেখা হয়েছে পাহাড়ি জনগণের মুক্তিযুদ্ধ তথা ১৯৭১ সালে তাদের সব ধরণের চরম আত্নত্যাগের ইতিহাস। একই সঙ্গে সারাদেশে আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের আত্নত্যাগকেও অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। এ কারণে লেখার শিরোনামে 'অন্য আলোয় দেখা' কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। বলা ভালো, এটি মুক্তিযুদ্ধের ওপর কোনো গুঢ় গবেষণাকর্ম নয়; এটি নিছকই পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি আলোচনার অবতারণা মাত্র।]

Wednesday, November 23, 2011

একটি শাহী এলান










তাং-১৪/০৯/১১

কারবারী,
পত্রে আমার শুভেচ্ছা নিবেন। আশাকরি পাড়ার সকলকে নিয়ে ভাল আছেন।
পর বার্তা আগামী ১৮/০৯/১১ ইং রোজ রবিবার সকাল ১০.০০ ঘটিকায় ক্যাম্প গণসংযোগ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মিটিং এ আপনী হাজির থাকবেন।
বি:দ্র: ০৫ কেজি মোরগ নিয়ে আসবেন।
ক্যাপ্টেন
ক্যাম্প কমান্ডার
মদক বিওপি

(স্বাক্ষর-অস্পষ্ট)

Monday, November 21, 2011

বাঙাল বিপ্লব লঙ্ঘিল গিরি...


বান্দরবানের দূর্গম পাহাড়ে ডিসেম্বরের ভোরে হীম বাতাসের কামড় ও ধোঁয়াশার দাপট খানিকটা কমে এলে সহযাত্রী সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমাসহ পরিকল্পনা করা হবে আরো দূর যাত্রার। সে দফায় বর্ষিয়ান বম গ্রাম প্রধান সাংলিয়ান কারবারী গাইড করবেন মেঘপুঞ্জিঁ ভেদ করে খাড়া উঠে যাওয়া ক্রেওক্রাডং পর্বত-লঙ্খন পর্বে। এর আগেই সাংবাদিক কাম অভিযাত্রীদ্বয় কাটিয়ে উঠবেন  বগা লেকের অপার বিস্ময়

যাত্রার প্রাক-প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে সঙ্গে থাকবে হালকা ঝোলা ব্যাগ। ব্যাগের ভেতর জলের বোতল, টর্চ (হঠাৎ রাত্রিবাসের প্রয়োজনে), প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন, ডেটল-ব্যাণ্ডেজ, কয়েক প্যাকেট বিস্কুট, এক ছড়া পাহাড়ি কলা, সিগারেট-ম্যাচ ইত্যাদি।

Thursday, October 27, 2011

রশীদ তালুকদার: একটি ব্যক্তিগত কথন



তখনো বালক বেলা একেবারের ছেড়ে যায়নি, নবম কি দশম শ্রেণীতেই যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের অন্যপাঠ সর্ম্পকে আগ্রহ জন্মে। এ কারণে ১০ জানুয়ারি, ২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ২৫ মার্চ, ৭ নভেম্বর, ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর -- ইত্যাদি বিশেষ দিবসের কাগজগুলোর নিবিড় পাঠ করা হতো।
সে সময়ই নজরে আসে সাদা-কালো সংবাদপত্রের যুগে ঐতিহাসিক কিছু সাদাকালো ছবি, এর সব কয়েকটির আলোকচিত্রী ছিলেন রশীদ তালুকদার।

স্মরণ করা ভালো, একুশে ফ্রেব্রুয়ারিতে ইত্তেফাকের একটি লিড ফাইল ফটোতে দেখা হয়েছিল ১৯৭১ এর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশের বেদনা বিধুর শহীদ মিনার। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ-লাইটে কামানের গোলায় পাকিস্তানি সেনারা গুড়িয়ে দিয়েছিল শহীদ মিনার। সে সময় ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করার জন্য ছাত্ররা একই স্থানে ইট দিয়ে ছোট্ট একটি স্তম্ভ নির্মাণ করে একটু কাগজে আঁকাবাঁকা হরফে 'শহীদ মিনার' লিখে স্তম্ভের গায়ে সেঁটে দিয়েছিল। ১৯৭১ এ সেখানেই শ্রদ্ধার্ঘ দিয়েছিল নিস্পেষিত, বিক্ষুব্ধ বাঙালি।

Sunday, October 23, 2011

আমাদের সময়ের নায়কেরা- ০১



এক.
‘৯০ এর ছাত্র-গণআন্দোলনের শেষ প্রান্তে চরম দীনতার অনুসঙ্গে খানিকটা ঘটনাচক্রেই ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়ার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। এর আগে নির্ঘাত কোনো না কোনো কাগজে বা সাময়িকপত্রে তার চমৎকার সব ছড়া পড়ে থাকবো।…

Friday, September 23, 2011

নাদিম কাদিরের স্মৃতিকথা: ১৯৭১



স্বাধীনতার ৪০ বছর পর মুক্তিযুদ্ধে শহীদ লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল কাদিরের প্রতীকী দেহাবশেষ গণকবর থেকে উত্তোলন করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হলো।

শহীদ সন্তান, বিশিষ্ট সাংবাদিক নাদিম কাদির একান্ত আলাপচারিতায় এই লেখককে বলেন, অনেক দেরীতে হলেও মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী আমার পিতার প্রতি দেশ যথাযথ সন্মান জানালো। দীর্ঘ ৩০ বছর অনুসন্ধান চালিয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে, যেখানে পাকিস্তানী সেনারা আমার বাবাসহ ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করেছে, সেই বধ্যভূমিটি আবিস্কার করি। কিন্তু সরকারের কাছে বহু ধর্ণা দিয়েও এতোদিন বধ্যভূমিটি খনন করে শহীদদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেখানে চার তলা বাড়ি গড়ে ওঠায় বাড়ির মালিকের সদিচ্ছার অভাব ও সরকারের উদ্যোগহীনতায় সেখানে একটি নামফলক পর্যন্ত লাগানো যায়নি। …

Monday, September 12, 2011

হাজং উৎসব: প্যাঁক খেলা





গারো পাহাড়ের কোলে নেত্রকোনার বিরিশিরির সুসং দূর্গাপুরে হাজং জনজাতিরা মেতে উঠেছেন ঐহিত্যবাহী 'প্যাঁক খেলা' উৎসবে। নারী-পুরুষ-শিশু সকলেই একে অপরকে পলি-কাদা মাখিয়ে খুশীতে মাতোয়ারা। হাত ধরাধরি করে গোল হয়ে নেচেগেয়ে অনাবিল আনন্দ, হাসি, তামাশায় সকলে বিভোর। কাদা মেখে কিম্ভুতকিমাকার একেকজন। হাসি আর কণ্ঠস্বর দিয়েই চিনে নিতে হয় আপন স্বজনকে।

Friday, August 26, 2011

ফুলবাড়ি- লাল সেলাম!



দিনাজপুর প্রতিনিধি খবর দেওয়ার আগেই ফুলবাড়ি গণবিদ্রোহে গুলি চালানোর প্রথম খবর পাওয়া হয় আন্দোলনের বন্ধুদের কাছ থেকে। তারাই ঘটনাস্থল থেকে জানান, তখনো গুলি আর টিয়ার শেল বর্ষণ চলছে। খবরটি নিশ্চিত করার জন্য সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরে পরিচিত সাংবাদিকদের টেলিফোন করা হয়।

Wednesday, August 24, 2011

বগালেক


দূর্গম পাহাড়ে ডিসেম্বরের ভোরে হীম বাতাসের কামড় ছাপিয়ে প্রধান হয়ে ওঠে দৃষ্টি আচ্ছন্ন করা কুয়াশা নয়, নারকেল দুধের মতো ঘন সাদাটে ধোঁয়াশা। শীতলতায় হাত-পা অবশ হয়ে আসতে চায়, ঘোলাটে চশমার কাঁচ বাস্পাচ্ছন্ন হয়ে আসে, তখন হাত তিনেক দূরের দৃষ্টিও বুঝি অসাড়। কুয়াশা জমে জমে বৃষ্টির মতো টুপটাপ ঝরে পড়ে জলকনা অরণ্য সবুজের মগডাল থেকে। ভিজিয়ে দেয় পোষাক-আশাক,ব্যাগ-ব্যাগেজ,সর্বোস্ব। দূরে রাতজাগা কোনো পাখি কর্কশ স্বরে ডেকে বলে, হুঁশিয়ার!

Friday, August 19, 2011

আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে?


যতবারই দূর পাহাড়ে যাওয়া হয়, আদিবাসী পাহাড়ি জনপদের আনন্দ-হাসি-গান, দুঃখ-বেদনা, সীমাহীন নিপীড়ন ও সংগ্রামের ভেতরের অন্তর্দশন এবং তথ্য সাংবাদিকতার বাইরেও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয় পাহাড়ি শিশুদের মনছবি।

গণহত্যা, যুদ্ধ, শান্তি, ভাতৃঘাতি সন্ত্রাস, সেনা-সেটেলার সহিংস আক্রমণ, এমন কী হালের আদিবাসী বিতর্ক-- এমন রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত পাহাড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেড়ে ওঠা পাহাড়ি শিশু মনের প্রতিক্রিয়া কী, তা বুঝতে চেষ্টা করা হয়। জাতিগত নিস্পেষন ও হিংসার দাবনল দেখতে দেখতে এই সব শিশুও কি আগামী দিনে হিংসার আগুন বুকে নিয়েই বড় হচ্ছে? তারাও কি একদিন ফিরিয়ে দেবে পাল্টা প্রতিটি আঘাত?

Thursday, August 11, 2011

বাঘাইছড়ির আশ্চর্য দেবশিশুগণ



প্রায় দেড় বছর আগে ১৯-২০ ফেব্রুয়ারিতে রাঙামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ির সংহিংসতার ঘটনাটি কী মনে আছে? সে সময় জায়গা-জমি দখলের উন্মোত্ত সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন কয়েকটি গ্রামের আদিবাসী পাহাড়িরা। অন্তত দু-জন আদিবাসীকে সেনা ও সেটেলার বাঙালিরা নির্মমভাবে হত্যা করে। হিংসার অনলে পুড়ে যায় আদিবাসী গ্রাম, বৌদ্ধ মন্দির, স্কুল, হাট-বাজার।...

Thursday, August 4, 2011

চিম্বুক পাহাড়ে বিপন্ন ম্রো জনপদ


বন বিভাগ আর সেনা বাহিনীর নানান ভূমি অধিগ্রহণে বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাসিন্দা ম্রো জনজাতির অস্তিত্ব এখন হুমকি মুখে। সেনা বাহিনীর অধিগ্রহণের মাত্রাই বেশী।

উচ্ছেদ হতে হতে প্রধানত ম্রো,মারমাসহ চিম্বুক পাহাড়ের আদিবাসী ও স্থায়ী বাঙালিরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অধিগ্রহণ আর বহিরাগত অভিবাসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে জুম চাষ (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরণের চাষাবাদ)। উজাড় হতে বসা বনে শিকারও বন্ধ বহু বছর।

এ নিয়ে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাবেক কর্মস্থল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ প্রথম প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। সে বার শীতের রাতে সেনা অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছিলো ৭৫০টি ম্রো পরিবার।
 

Thursday, July 28, 2011

বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই?


আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি শুধু পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, একজন সফল চিকিৎসকও। মন্ত্রী হওয়ার আগে ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসে তিনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধিন শোভাযাত্রার মিছিলে এরকম হাসিমুখেই যোগ দিয়েছিলেন। তখন আদিবাসীর অধিকার আদায়ের পক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্যও রেখেছেন। আর এখন নিজের স্মৃতিশক্তির চমৎকার অস্ত্রপচার করে আপামনি বলেছেন, দেশে নাকি কোনো আদিবাসী নেই! এই বক্তব্যের সমর্থনে তিনি সংবিধানটিও ভুলভাল উদ্ধৃত করেছেন।

Monday, July 11, 2011

আমরা শোকাহত, আমরা ক্ষুব্ধ…

আমরা** গভীরভাবে শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ । বিশিষ্ট সান্তাল আদিবাসী লেখক, সহব্লগার মিথুশিলাক মুরমু’র [লিংক] বিধবা স্কুল শিক্ষক বোন মরিয়ম মুরমুকে (৫৫) গত রোববার সন্ত্রাসীরা রাজশাহীর গ্রামের বাড়িতে গণধর্ষন ও বিভৎস শাররীক নির্যাতনের পর হত্যা করেছে। পৈশাচিক ঘটনাটি এখান্ই শেষ নয়, হত্যার পর সন্ত্রীরা আদিবাসী বোনটির নগ্ন লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখে প্রতিহিংসাও মিটিয়েছে। …

Saturday, January 8, 2011

খাসিয়া গ্রামে গাছ কাটার মহোৎসব!


বিপ্লব রহমান, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার থেকে ফিরে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত খাসিয়া আদিবাসী দুটি গ্রাম নাহার পুঞ্জি-১ ও নাহার পুঞ্জি-২-এর প্রায় চার হাজার প্রাকৃতিক গাছ কেটে ফেলতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট চা বাগানের মালিক। গাছগুলো রক্ষায় আদিবাসীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এবং প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পায়নি। আদিবাসীরা বলছে, এসব গাছ না থাকলে খাসিয়াদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পান জুম (পাহাড়ের ঢালে বিশেষভাবে পানচাষ) ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন গ্রাম থেকেই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে তাদের। অন্যদিকে নাহার চা বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, চা উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকায় গাছগুলো কেটে চা বাগান সম্প্রসারণ করা জরুরি। তাই উচ্চ আদালত, প্রশাসন ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই তারা গাছ কাটতে শুরু করেছে।