Monday, November 10, 2014

সংশপ্তকের জন্য বিপ্লব রহমানের সাক্ষাৎকার

মুখোমুখি: প্রখ্যাত সাংবাদিক বিপ্লব রহমান

সংশপ্তক: বিপ্লব আপনি মুক্তিযুদ্ধের লগ্নে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের একজন। সেই হিসেবে আপনার জীবন ও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস; এই দুয়ের মধ্যে সমান্তরাল সম্পর্ক সূত্রটি ঠিক কি বলে মনে হয় আপনার?

বিপ্লব রহমান: আপনি ঠিকই বলেছেন, একদম অগ্নিগর্ভ মুক্তিযুদ্ধের কালে আমার জন্ম। ওই সময়ে আমরা যারা জন্মেছি, তারা নিজেদের প্রজন্ম '৭১ বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আপনি জেনে খুশী হবেন, মুক্তির লড়াইয়ের কালে জন্ম নেওয়া সে সময় শত সহস্র সদ্যজাত শিশুর নাম রাখা হয়েছিল "বিপ্লব", "মুক্তি", "নিশান", "সবুজ", "আজাদ", "শিখা", "আগুন" ইত্যাদি। এইসব নামে আমাদের পূর্বসূরিরা স্বাধীনতার স্বপ্ন গেথেঁ দিয়েছেন। আর আমরা সেই চেতনার রক্তবীজ ধারণ করেই বেড়ে উঠেছি।

Monday, November 3, 2014

রোয়াংছড়িতে বিপন্ন পাহাড়ি জনপদ


পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ক্রাইক্ষংপাড়া নামক মারমা জনগোষ্ঠি অধু্যষিত এলাকায় বিজিবি'র (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের) ক্যাম্প নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিস্তৃর্ণ পাহাড়ি জনপদ উচ্ছেদ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এমন খবর আমরা ঢাকার সাংবাদিকরা আগেভাগেই কিছু টুকরো খবরে জেনেছি। সরেজমিনে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য এক সকালে দুই মাইক্রোবাস ভর্তি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভি মিডিয়ার সাংবাদিকরা  রওনা দেই ঘটনাস্থলের দিকে।

Saturday, October 18, 2014

জীবনযুদ্ধ:: তবু স্বপ্ন দেখে সর্ব-স্বজনহারা ফারজানা


‘এক আগুনে আম্মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের ৯ জনকে হারাইছি। আছিল শুধু আব্বা। সেও গত মাসে রোড অ্যাকসিডেন্টে মরছে। এখন পরিবারে একমাত্র আমিই বাঁইচা আছি। আগুনে আমার পিঠ, দুই হাত, মুখ পুড়ছে। ডান হাতটা অচল হইয়া গেছে। এখনো সারা শরীলে ফোসকা। চিকিৎসার জন্য ম্যালা টাকা দরকার। আমার হাতটা যদি অপারেশন কইরা ভালো করা যাইত, যদি আবার ইস্কুলে যাইতে পারতাম...!’ অশ্রুসজল চোখে কথাগুলো বলছিল ফারজানা আক্তার (১৫)।

Saturday, October 11, 2014

মোনঘর শিশু সদন:: পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর

বিপ্লব রহমান, রাঙাপানি (রাঙামাটি) থেকে ফিরে: পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে মেয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিটুকু পার করাতে পেরেছেন। কিন্তু এরপর? চটপটে পাহাড়ি মেয়েটি কালের কণ্ঠকে বলে, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার লেখাপড়া এখানেই শেষ। এ সময় আমরা শুনতে পাই মোনঘর শিশু সদনের কথা। সেখানে নাকি নামমাত্র বেতনে খুব ভালো লেখাপড়া হয়। এরপর আমি এই আবাসিক স্কুলে এসে ভর্তি হই। এখন এখানে আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছি। মোনঘরের হাত ধরে আমি আরো অনেক দূর এগোতে চাই।’ 

Friday, October 3, 2014

আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা

প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন অনেকদিন আগে, কিছুদিন আগে মারা গেছেন তিনি।

এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের দিকে, সমীরণ দা’র ওই বিয়েটি ছিলো খুবই জাঁক-জমকপূর্ণ। একদম আদি চাকমা সংস্কৃতির কোনো বিয়েতে অংশগ্রহণ সেই প্রথম।

Saturday, September 27, 2014

জড়ো জীবন~


মোরে সান্তাল বানাইছে ভগমান গো
মোরে মানুষ বানায়নি ভগমান...
গত জুনে গিয়েছিলাম রংপুর-দিনাজপুর। দুটি আদিবাসী সান্তাল গ্রামে মানবাধিকার লংঘনের সরেজমিন সংবাদ করতে। রংপুরে আকাশমনিতে বন সৃজন করবে বলে বন বিভাগ উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েছে ভূমিহীন শত সান্তাল পরিবারকে। আর দিনাজপুরে ভূমি দখল করতে সন্ত্রাসীরা দিনে-দুপুরে চারজন সান্তাল কৃষককে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে। ...

Saturday, September 13, 2014

আমলাতন্ত্রের জালে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন


আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। দেখতে চাই আর কত হয়রানির পর আমার গাড়িটি চট্টগ্রাম শুল্ক বিভাগ থেকে ছাড়া পায়। সরকারি কর্মকর্তারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ দেশে আর কত হেনস্তা করতে পারেন। আমার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এভাবে আমলাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হতে পারে না।

কথাগুলো বলছিলেন গাড়ি চালিয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হওয়া কানাডার নাগরিক, একাত্তরের অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার সালাউদ্দীন (৬০)। 

Monday, September 1, 2014

আমি বিচিত্রা তির্কি বলছি…


আপনারা আমার নাম ছেপে দিন, আমার ছবি প্রকাশ করুন। গণধর্ষিত বলে আমি এসবে ভয় পাই না। আমার সঙ্গে তাবত্ উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ আদিবাসী ভাই-বোন আছে। আমার স্বামী, ছেলেমেয়ে, পরিবার-পরিজন -- সবাই আমার সঙ্গে আছে। লোকলজ্জার ভয়ে আমি নাম-পরিচয় গোপন করলে আসামীরা সকলেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে। ওরা সরকারি দল আওয়ামী লীগ করে। সকলেই চলে যাবে পর্দার আড়ালে।...

Sunday, August 24, 2014

বড় পাপ হে!


একক বা গণধর্ষন এখন ভূমি দস্যুদের আদিবাসী নিপীড়নের হাতিয়ার। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে, মারপিট করে, খুন ও ধর্ষন সন্ত্রাস ছড়িয়ে একের পর এক আদিবাসী জনপদ উজাড় করা হচ্ছে। পাহাড় বা সমতলে সর্বত্র এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে নিপীড়নের এই দানব। মধুপুরের স্মৃতি রিছিল থেকে খাগড়াছড়ির সাবিতা চাকমা। গিদিতা রেমা থেকে সুজাতা চাকমা। ...১৮ বছর আগে পোষাক ধারী সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে গেল বাঘাইছড়ির নারী নেত্রী কল্পনা চাকমাকে। আর সেদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরেক উঁরাও নেত্রী দিনে-দুপুরে ধান ক্ষেতের ভেতর হলেন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার।

ম্রো নারীর জীবিকার লড়াইয়ে তাঁত

বিপ্লব রহমান, থানচি (বান্দরবান) থেকে ফিরে:
পাহাড়ের ‘ম্রো’ জনগোষ্ঠীর মেয়েরা জুমচাষের পাশাপাশি এই প্রথমবারের মতো বেছে নিয়েছেন ঐহিত্যবাহী তাঁতশিল্পকে। দুর্গম পাহাড়ে জনবসতি বেড়ে যাওয়ায় জুমচাষের জমির সঙ্গে দিন দিন কমে আসছে ফসলের পরিমাণও। তাই বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে তাঁতশিল্পকে বেছে নেওয়ায় এখন ম্রোদের সংসারে এসেছে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য।