Monday, February 9, 2015

প্রতিবন্ধিতাজয়ী শর্মীর আকাশ সমান স্বপ্ন

 
'প্রতিবন্ধকতার সব বাধা পেরুতে চাই। আর প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই চিকিৎসাকেন্দ্র। সেখানে চলৎ প্রতিবন্ধী শিশুরা নামমাত্র মূল্যে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যায়াম, ম্যাসাজ থেরাপি পাবে। তাদের অভিভাবকরা পাবেন চিকিৎসাসেবার নানা পরামর্শ। আর বয়সে বড় চলৎ প্রতিবন্ধীরাও সেখানে ব্যায়াম ও থেরাপির সুবিধা পাবে। এখন এই লক্ষ্যে কাজ করছি।' চলৎ প্রতিবন্ধী ও কম্পিউটার প্রোগ্রামার শর্মী রায় (২৫) এভাবেই জানান নিজের স্বপ্নের কথা।

Wednesday, January 21, 2015

পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ~


বিপ্লব রহমানের নতুন বই:: "পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ"
[সাংবাদিকের জবানবন্দিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের অকথিত অধ্যায়]

টানা চার বছর ধরে লিখেছি পাহাড় ও অরণ্যের উপখ্যান। একদম দেখা থেকে লেখা। এই বইটিতে অহেতুক তত্তকথার কচকচানি নেই। নেই গুঢ় কথার মারপ্যাচ বা ভাব-গম্ভীর প্রবন্ধ। প্রায় সবই সংবাদ নেপথ্য কথা।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পাহাড়, এমএন লারমার গেরিলা যুদ্ধের পত্র, গেরিলা নেতা সন্তু লারমার হাইড আউট, লোগাং গণহত্যা, ত্রিপুরার শরণার্থী শিবির, কল্পনা চাকমা অপহরণ, পাহাড়ে সেনা-সেটেলার দুঃশাসন, সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে ত্রিপুরাদের শ্রমদাস, ক্রেওক্রাডং এর পাহাড়ে এখনো নিরব দুর্ভিক্ষসহ আরো নানান কথন উঠে এসেছে বইটিতে।

Saturday, January 3, 2015

দখল আর দূষণে 'নিহত' বুড়িগঙ্গা



বিপ্লব রহমান ও আরিফুজ্জামান তুহিনঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গার প্রাণ নেই। স্বাধীনতার পর গত চার দশকে বুড়িগঙ্গা তিলে তিলে দখল ও দূষণের কবলে পড়ে একটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে। এ নদীর জায়গা দখল করে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গড়ে উঠছে স্থাপনা। কমছে নদীর প্রশস্ততা, কমছে প্রাণপ্রবাহ। প্রতি মুহূর্তে নদীর ভেতর ফেলা হচ্ছে পানিদূষণকারী ভয়ংকর সব বর্জ্য। বুড়িগঙ্গার বড় অংশেই নেই জলজ প্রাণী বা মাছ। এ নদীর পানি বহু আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে। এমনকি নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে শ্বাস নেওয়া যায় না। পানির দুর্গন্ধে আশপাশে টেকাই দায়।

Tuesday, December 30, 2014

ক্লাসরুম ছোট বলে মনে নেই জ্বালা, দুনিয়াটা আমাদের বড় পাঠশালা...

রাঙাবেল: রুবেলের পাঠশালা: সার-সংক্ষেপ: বন্ধু গো, আজি তোমায়, বড়ো বেশী প্রয়োজন… মাসে মাত্র হাজার ২০ টাকার যোগান দেওয়া গেলেই প্রান্তিক শিশুদের আলোর ইস্কুলটি...

Friday, December 5, 2014

​কচ্ছপ::ভালোবাসায় বাঁচবে ওরা

‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী।’ প্রাচীন এই প্রবাদে আভাস মেলে হরিণের মতো নিরীহ-সুন্দর বন্য প্রাণী কতটা বিপন্ন। আর সুস্বাদু মাংসের লোভে অতিনিধনে দুনিয়া থেকেই হা
​​
রাতে বসেছে বেশ কয়েক প্রজাতির কচ্ছপ। নদ-নদী আর জলাশয়ের অস্তিত্ব সংকটে সারা দেশেই আজ বিলুপ্তির পথে কয়েক প্রজাতির কচ্ছপ। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কোনোক্রমে টিকে থাকা ‘সাদা কাটা’ বা ‘কালো কাটা’ কচ্ছপ আবার সারা বিশ্বেই মহা বিপন্ন প্রাণী। এটির ইংরেজি নাম ‘রিভার টেরাপিন’। আর বৈজ্ঞানিক নাম ‘বাটাগুর বাস্কা’। বাংলাদেশে অঞ্চল ভেদে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত।

Thursday, December 4, 2014

​অদম্য:: প্রতিবন্ধিতা জয় করে চলেছেন আকবর

‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আমাকে দমাতে পারেনি। স্কুল-কলেজে পড়তে পারিনি ঠিকই, তবে বাসায় একা একাই পড়েছি। আর শিখেছি কম্পিউটারে জটিল সব গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ। এই কাজে এখন আমি যথেষ্ট পারদর্শী। আরো দক্ষতা অর্জনে নিজেকে তৈরি করছি। ঘরে বসেই অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয়ও করছি। ইউরোপের বাজারে আমার পণ্য তীব্র প্রতিযোগিতা করে বিক্রি হচ্ছে। এভাবেই প্রতিবন্ধকতার সব বাধা একদিন আমি পেরিয়ে যেতে চাই। জয় করতে চাই পাহাড়সম বাধা।’
হুইল চেয়ারে বসে ল্যাপটপে জরুরি কাজ করার ফাঁকে কথাগুলো বলছিলেন আকবর হোসেন (২৯)। ঢাকার হাতিরপুলে সেন্ট্রাল রোডের বাসায় কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই গ্রাফিক্স ডিজাইনার শোনান তাঁর সাফল্যের নেপথ্যের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা। 

Monday, November 10, 2014

সংশপ্তকের জন্য বিপ্লব রহমানের সাক্ষাৎকার

মুখোমুখি: প্রখ্যাত সাংবাদিক বিপ্লব রহমান

সংশপ্তক: বিপ্লব আপনি মুক্তিযুদ্ধের লগ্নে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের একজন। সেই হিসেবে আপনার জীবন ও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস; এই দুয়ের মধ্যে সমান্তরাল সম্পর্ক সূত্রটি ঠিক কি বলে মনে হয় আপনার?

বিপ্লব রহমান: আপনি ঠিকই বলেছেন, একদম অগ্নিগর্ভ মুক্তিযুদ্ধের কালে আমার জন্ম। ওই সময়ে আমরা যারা জন্মেছি, তারা নিজেদের প্রজন্ম '৭১ বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আপনি জেনে খুশী হবেন, মুক্তির লড়াইয়ের কালে জন্ম নেওয়া সে সময় শত সহস্র সদ্যজাত শিশুর নাম রাখা হয়েছিল "বিপ্লব", "মুক্তি", "নিশান", "সবুজ", "আজাদ", "শিখা", "আগুন" ইত্যাদি। এইসব নামে আমাদের পূর্বসূরিরা স্বাধীনতার স্বপ্ন গেথেঁ দিয়েছেন। আর আমরা সেই চেতনার রক্তবীজ ধারণ করেই বেড়ে উঠেছি।

Monday, November 3, 2014

রোয়াংছড়িতে বিপন্ন পাহাড়ি জনপদ


পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ক্রাইক্ষংপাড়া নামক মারমা জনগোষ্ঠি অধু্যষিত এলাকায় বিজিবি'র (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের) ক্যাম্প নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিস্তৃর্ণ পাহাড়ি জনপদ উচ্ছেদ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এমন খবর আমরা ঢাকার সাংবাদিকরা আগেভাগেই কিছু টুকরো খবরে জেনেছি। সরেজমিনে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য এক সকালে দুই মাইক্রোবাস ভর্তি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টিভি মিডিয়ার সাংবাদিকরা  রওনা দেই ঘটনাস্থলের দিকে।

Saturday, October 18, 2014

জীবনযুদ্ধ:: তবু স্বপ্ন দেখে সর্ব-স্বজনহারা ফারজানা


‘এক আগুনে আম্মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের ৯ জনকে হারাইছি। আছিল শুধু আব্বা। সেও গত মাসে রোড অ্যাকসিডেন্টে মরছে। এখন পরিবারে একমাত্র আমিই বাঁইচা আছি। আগুনে আমার পিঠ, দুই হাত, মুখ পুড়ছে। ডান হাতটা অচল হইয়া গেছে। এখনো সারা শরীলে ফোসকা। চিকিৎসার জন্য ম্যালা টাকা দরকার। আমার হাতটা যদি অপারেশন কইরা ভালো করা যাইত, যদি আবার ইস্কুলে যাইতে পারতাম...!’ অশ্রুসজল চোখে কথাগুলো বলছিল ফারজানা আক্তার (১৫)।

Saturday, October 11, 2014

মোনঘর শিশু সদন:: পাহাড়ে শিক্ষার বাতিঘর

বিপ্লব রহমান, রাঙাপানি (রাঙামাটি) থেকে ফিরে: পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ঘাগড়ার দেবতাছড়ি গ্রামের কিশোরী সুমি তঞ্চঙ্গ্যা। দরিদ্র জুমচাষি মা-বাবার পঞ্চম সন্তান। অভাবের তাড়নায় অন্য ভাইবোনদের লেখাপড়া হয়নি। কিন্তু ব্যতিক্রম সুমি। লেখাপড়ায় তার প্রবল আগ্রহ। অগত্যা মা-বাবা তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। কোনো রকমে মেয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডিটুকু পার করাতে পেরেছেন। কিন্তু এরপর? চটপটে পাহাড়ি মেয়েটি কালের কণ্ঠকে বলে, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার লেখাপড়া এখানেই শেষ। এ সময় আমরা শুনতে পাই মোনঘর শিশু সদনের কথা। সেখানে নাকি নামমাত্র বেতনে খুব ভালো লেখাপড়া হয়। এরপর আমি এই আবাসিক স্কুলে এসে ভর্তি হই। এখন এখানে আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছি। মোনঘরের হাত ধরে আমি আরো অনেক দূর এগোতে চাই।’