Monday, February 13, 2012

শিরোনামহীন

 
আপনাকে নিয়ে আমি কী লিখতে পারি? কী লেখা উচিৎ? আপনাকে নিয়ে লিখতে গিয়ে টিভিতে দেখা সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা আমার চোখের সামনে একে একে সিনেমার স্লাইডের মতো ভেসে উঠছে। কম্পিউটার-কি বোর্ড স্লথ থেকে স্লথতর হয়ে আসছে।...

Tuesday, February 7, 2012

একটি ক্লান্ত পাখির কথা...



ফুন্দরি রাঙা ঝুরবো ফেগ/ তম্মা মইলে মুই ইদু এজ...চাকমা ছড়া...রাঙা লেজের ক্লান্ত পাখি/ তোমার মা মারা গেলে আমার কাছে এসো...
রক্তাক্ত এই আদিবাসী মেয়েটিকে চিনতে পারেন? গত বছর রামগড় সংঘর্ষের সময় পাহাড়ে অভিবাসিত বাঙালি সেটেলারদের সংঘবদ্ধ হামলায় কিশোরিটি গুরুতর আহত ও নিখোঁজ হয়।

বলা ভাল, খাগড়াছড়ির রামগড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত বছর ১৭ এপ্রিল পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন বাঙালি সেটেলার নিহত হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পাহাড়ি ও বাঙালি সেটেলারদের অনেক বাড়ি।

Tuesday, January 10, 2012

সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!

 
"সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার।"

Saturday, January 7, 2012

নিধনযজ্ঞে বৃক্ষশূন্য খাসিয়া পাহাড়


বিপ্লব রহমান, শ্রীমঙ্গল থেকে ফিরে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। অন্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি বৃক্ষশোভিত পাহাড়শ্রেণী এর বড় একটা গর্বের বিষয় ছিল। কিন্তু পাহাড়গুলো আজ সৌন্দর্যহীন। চা বাগান কর্তৃপক্ষের হাতে কাটা পড়েছে এখানকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার গাছ। বেপরোয়া গাছ কাটার ফলে শ্রীমঙ্গলের খাসিয়া পাহাড় আজ বৃক্ষশূন্য। বিপন্ন হয়ে পড়েছে ভাষাগত সংখ্যালঘু খাসিয়া জনজাতির দুটি গ্রাম। হুমকির মুখে পড়েছে খাসিয়া জনপদের জীবন-জীবিকা। মানববন্ধন, প্রশাসনে ধরনা-কোনো কিছুতেই ফল হয়নি। প্রতিটি মুহূর্ত উচ্ছেদ আতঙ্ক তাদের তাড়া করে ফিরছে।


Thursday, December 15, 2011

পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধ: অন্য আলোয় দেখা





[সাবেক চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের সক্রিয় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধকে বহুবছর ধরে বিভ্রান্তির ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে। খাটো করে দেখা হয়েছে পাহাড়ি জনগণের মুক্তিযুদ্ধ তথা ১৯৭১ সালে তাদের সব ধরণের চরম আত্নত্যাগের ইতিহাস। একই সঙ্গে সারাদেশে আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের আত্নত্যাগকেও অনেক ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। এ কারণে লেখার শিরোনামে 'অন্য আলোয় দেখা' কথাটি যুক্ত করা হয়েছে। বলা ভালো, এটি মুক্তিযুদ্ধের ওপর কোনো গুঢ় গবেষণাকর্ম নয়; এটি নিছকই পাহাড়ের মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি আলোচনার অবতারণা মাত্র।]

Wednesday, November 23, 2011

একটি শাহী এলান










তাং-১৪/০৯/১১

কারবারী,
পত্রে আমার শুভেচ্ছা নিবেন। আশাকরি পাড়ার সকলকে নিয়ে ভাল আছেন।
পর বার্তা আগামী ১৮/০৯/১১ ইং রোজ রবিবার সকাল ১০.০০ ঘটিকায় ক্যাম্প গণসংযোগ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মিটিং এ আপনী হাজির থাকবেন।
বি:দ্র: ০৫ কেজি মোরগ নিয়ে আসবেন।
ক্যাপ্টেন
ক্যাম্প কমান্ডার
মদক বিওপি

(স্বাক্ষর-অস্পষ্ট)

Monday, November 21, 2011

বাঙাল বিপ্লব লঙ্ঘিল গিরি...


বান্দরবানের দূর্গম পাহাড়ে ডিসেম্বরের ভোরে হীম বাতাসের কামড় ও ধোঁয়াশার দাপট খানিকটা কমে এলে সহযাত্রী সাংবাদিক বুদ্ধজ্যোতি চাকমাসহ পরিকল্পনা করা হবে আরো দূর যাত্রার। 

সে দফায় বর্ষিয়ান বম গ্রাম প্রধান সাংলিয়ান কারবারী গাইড করবেন মেঘপুঞ্জিঁ ভেদ করে খাড়া উঠে যাওয়া ক্রেওক্রাডং পর্বত-লঙ্খন পর্বে। এর আগেই সাংবাদিক কাম অভিযাত্রীদ্বয় কাটিয়ে উঠবেন  বগা লেকের অপার বিস্ময়

Thursday, October 27, 2011

রশীদ তালুকদার: একটি ব্যক্তিগত কথন



তখনো বালক বেলা একেবারের ছেড়ে যায়নি, নবম কি দশম শ্রেণীতেই যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের অন্যপাঠ সর্ম্পকে আগ্রহ জন্মে। এ কারণে ১০ জানুয়ারি, ২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ২৫ মার্চ, ৭ নভেম্বর, ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর -- ইত্যাদি বিশেষ দিবসের কাগজগুলোর নিবিড় পাঠ করা হতো।
সে সময়ই নজরে আসে সাদা-কালো সংবাদপত্রের যুগে ঐতিহাসিক কিছু সাদাকালো ছবি, এর সব কয়েকটির আলোকচিত্রী ছিলেন রশীদ তালুকদার।

স্মরণ করা ভালো, একুশে ফ্রেব্রুয়ারিতে ইত্তেফাকের একটি লিড ফাইল ফটোতে দেখা হয়েছিল ১৯৭১ এর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশের বেদনা বিধুর শহীদ মিনার। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ-লাইটে কামানের গোলায় পাকিস্তানি সেনারা গুড়িয়ে দিয়েছিল শহীদ মিনার। সে সময় ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করার জন্য ছাত্ররা একই স্থানে ইট দিয়ে ছোট্ট একটি স্তম্ভ নির্মাণ করে একটু কাগজে আঁকাবাঁকা হরফে 'শহীদ মিনার' লিখে স্তম্ভের গায়ে সেঁটে দিয়েছিল। ১৯৭১ এ সেখানেই শ্রদ্ধার্ঘ দিয়েছিল নিস্পেষিত, বিক্ষুব্ধ বাঙালি।

Sunday, October 23, 2011

আমাদের সময়ের নায়কেরা- ০১



এক.
‘৯০ এর ছাত্র-গণআন্দোলনের শেষ প্রান্তে চরম দীনতার অনুসঙ্গে খানিকটা ঘটনাচক্রেই ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়ার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। এর আগে নির্ঘাত কোনো না কোনো কাগজে বা সাময়িকপত্রে তার চমৎকার সব ছড়া পড়ে থাকবো।…

Friday, September 23, 2011

নাদিম কাদিরের স্মৃতিকথা: ১৯৭১



স্বাধীনতার ৪০ বছর পর মুক্তিযুদ্ধে শহীদ লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল কাদিরের প্রতীকী দেহাবশেষ গণকবর থেকে উত্তোলন করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হলো।

শহীদ সন্তান, বিশিষ্ট সাংবাদিক নাদিম কাদির একান্ত আলাপচারিতায় এই লেখককে বলেন, অনেক দেরীতে হলেও মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী আমার পিতার প্রতি দেশ যথাযথ সন্মান জানালো। দীর্ঘ ৩০ বছর অনুসন্ধান চালিয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে, যেখানে পাকিস্তানী সেনারা আমার বাবাসহ ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করেছে, সেই বধ্যভূমিটি আবিস্কার করি। কিন্তু সরকারের কাছে বহু ধর্ণা দিয়েও এতোদিন বধ্যভূমিটি খনন করে শহীদদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেখানে চার তলা বাড়ি গড়ে ওঠায় বাড়ির মালিকের সদিচ্ছার অভাব ও সরকারের উদ্যোগহীনতায় সেখানে একটি নামফলক পর্যন্ত লাগানো যায়নি। …