Thursday, July 28, 2011

বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই?


আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি শুধু পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, একজন সফল চিকিৎসকও। মন্ত্রী হওয়ার আগে ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসে তিনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধিন শোভাযাত্রার মিছিলে এরকম হাসিমুখেই যোগ দিয়েছিলেন। তখন আদিবাসীর অধিকার আদায়ের পক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্যও রেখেছেন। আর এখন নিজের স্মৃতিশক্তির চমৎকার অস্ত্রপচার করে আপামনি বলেছেন, দেশে নাকি কোনো আদিবাসী নেই! এই বক্তব্যের সমর্থনে তিনি সংবিধানটিও ভুলভাল উদ্ধৃত করেছেন।

Monday, July 11, 2011

আমরা শোকাহত, আমরা ক্ষুব্ধ…

আমরা** গভীরভাবে শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ । বিশিষ্ট সান্তাল আদিবাসী লেখক, সহব্লগার মিথুশিলাক মুরমু’র [লিংক] বিধবা স্কুল শিক্ষক বোন মরিয়ম মুরমুকে (৫৫) গত রোববার সন্ত্রাসীরা রাজশাহীর গ্রামের বাড়িতে গণধর্ষন ও বিভৎস শাররীক নির্যাতনের পর হত্যা করেছে। পৈশাচিক ঘটনাটি এখান্ই শেষ নয়, হত্যার পর সন্ত্রীরা আদিবাসী বোনটির নগ্ন লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখে প্রতিহিংসাও মিটিয়েছে। …

Saturday, January 8, 2011

খাসিয়া গ্রামে গাছ কাটার মহোৎসব!


বিপ্লব রহমান, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার থেকে ফিরে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত খাসিয়া আদিবাসী দুটি গ্রাম নাহার পুঞ্জি-১ ও নাহার পুঞ্জি-২-এর প্রায় চার হাজার প্রাকৃতিক গাছ কেটে ফেলতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট চা বাগানের মালিক। গাছগুলো রক্ষায় আদিবাসীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এবং প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পায়নি। আদিবাসীরা বলছে, এসব গাছ না থাকলে খাসিয়াদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পান জুম (পাহাড়ের ঢালে বিশেষভাবে পানচাষ) ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন গ্রাম থেকেই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে তাদের। অন্যদিকে নাহার চা বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, চা উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকায় গাছগুলো কেটে চা বাগান সম্প্রসারণ করা জরুরি। তাই উচ্চ আদালত, প্রশাসন ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই তারা গাছ কাটতে শুরু করেছে।

Wednesday, November 10, 2010

এমএন লারমা স্মরণে : : মঞ্জু’র কিছু স্মৃতি, কিছু কথা…


লিখেছেন: জ্যোতিপ্রভা লারমা*
আমাদের পরিবার
আমাদের ঠাকুরদাদা চানমুনি চাকমা ও তাঁর অন্যান্য ভাইদের বাসস্থান ছিল প্রথমে ‘কেরেতকাবা’ নামক স্থানে, (রাঙামাটির) মাওরুম ছড়ার উৎপত্তিস্থল সত্তা-ধ্রুং এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে। পরে দাদুরা চলে আসেন এই মহাপুরমে (মাওরুম)। বাবারা তিন ভাই। সবার বড় কৃষ্ণ কিশোর চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ; মেঝোভাই হরকিশোর চাকমা, তখনকার সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন; আর সবার ছোট চিত্ত কিশোর চাকমা, আমাদের পিতা। আমাদের মায়ের নাম সুভাষিণী দেওয়ান, খাগড়াছড়িস্থ খবংপয্যা গ্রামের রমেশ চন্দ্র দেওয়ানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। আমার তিন ভাই যথাক্রমে– শুভেন্দু প্রভাস লারমা (বুলু), মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (মঞ্জু), সবার ছোট জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু) আর আমি সবার বড় বোন জ্যোতিপ্রভা লারমা মিনু। আমি মঞ্জুকে আদর করে ডাকতাম ‘চিক্ক’ বলে।

Tuesday, October 12, 2010

ঘড়িঘর...

০১. ঘড়ি নিয়ে একটি দীর্ঘতম অবসেশন আমৃত্যূ তোমাকে তাড়া করে ফিরবে নিশ্চিত।

সেই যে ছেলেবেলায় রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে তুমি মনছবিতে আঁকতে একটি বিশাল ডায়ালের গ্রান্ডস ফাদারস্ ক্লক। কাঁটা দুটি বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে যখন উলম্ব আকারে সোজা হয়ে দাঁড়াতো, অর্থাৎ কি না ভোর ছয়টা, তুমি মনে মনে শুনতে পেতে ঢং...ঢং...ঢং...কলজে-কাঁপানো ছয়-ছয়টি ঘন্টাধ্বনি।

Sunday, August 22, 2010

সরেজমিন দিনাজপুর: দখলদারদের থাবায় আদিবাসীদের জমি


বিপ্লব রহমান, দিনাজপুরের আদিবাসী অঞ্চল থেকে ফিরে:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার চক বানারসি সাঁওতাল আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দা সালগিন হেমরমের (৭০) স্বামী চণ্ডু মার্ডি মারা গেছেন বছরখানেক আগে। একমাত্র ছেলেটিও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। স্বামী মারা যাওয়ার পর বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁর আট একর ধানি জমি দখল করে বসেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। জমি হারিয়ে বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষে করে দিন কাটছে তাঁর। 

Sunday, August 15, 2010

শঙ্খ নদী: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা



এক.পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা ধারায় নয়নাভিরাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ৫,০৯৩ বর্গমাইল। বাংলাদেশের এক কোনে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান– এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠা পার্বত্যঞ্চালে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস করেন।

মায়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম বান্দরবান জেলার আয়তন ৪,৪৭০ বর্গ কি.মি.। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিনডং (উচ্চতা ১০০৩ মিটার) এই জেলায় অবস্থিত, যা বিজয় বা মদক মুয়াল নামেও পরিচিত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (উচ্চতা ৮৮৩ মিটার) এবং সর্বোচ্চ খাল রাইখিয়াং-ও বান্দরবানে অবস্থিত। [লিংক] জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ।

Tuesday, August 10, 2010

আইটি’তে কতদুর এগোল বাংলা?


এই যে এখন কম্পিউটারে দু-একটি বোতাম টিপেই খুলে বসেছি প্রিয় ব্লগ পাতা, অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস, ঠিক এমনটি কী আমরা ভাবতে পেরেছিলাম বছর দশেক আগে? নিঃসন্দেহে এটি তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি তথা ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় বাংলা ভাষারই অগ্রগতি। আচ্ছা, বাংলার এই উল্লম্ফন শুরু হলো কবে থেকে?

Friday, August 6, 2010

মন কেনো এতো কথা বলে?…


এক. 
জীবনের অনেকটা বাঁক পেরিয়ে আমি আমার ছোট্ট বন্ধু মানিকের কথা ভুলতে বসেছিলাম। বছর দশেক আগে বিবিসির বাংলা বিভাগের (এখন ফ্রি ল্যান্স উন্নয়ন কর্মী) কুররাতুল আইন তাহমিনা, আমাদের মিতি আপার টেলিফোনে এক লহমায় মনে পড়ে যায় হারিয়ে যাওয়া সেই কালো মানিকের মায়াময় মুখ।

মিতি আপা জানতে চান, আপনার কী মানিকের কথা মনে আছে?

আমার প্রথমেই সাংবাদিক মানিকের নাম মনে পড়ে।
মিতি আপা বলেন, আরে না, আমি টোকাই মানিকের কথা বলছি, ওই যে সে নাকি এক সময় আপানাদের সাথে দল বেঁধে ঘুরতো। আর খুব সুন্দর গান করতো।…

হ্যাঁ, মনে আছে। কিন্তু কেনো?

সময় থাকলে আপনি এখনই বিবিসির ইন্দিরা রোডের অফিসে চলে আসুন। খুব জরুরী।

Wednesday, July 28, 2010

আমি যারে ভালবাসি, তারে আবার বাসি না…


আটের দশকে এসএসসি পরীক্ষার পর আমার স্কুলের বন্ধুরা কেউ স্পোকেন ইংলিশ, কেউ বেসিক ইংলিশ, কেউ বা শর্টহ্যান্ড-টাইপরাইটিং বা কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হয়ে গেল। তখন আমেরিকা যাওয়ার খুব ক্রেজ। এবং মাইকেল জ্যাকসন।…


আমি এ সব কিছুর কোনোটাই করিনি। একেবারে সিরিয়াস পরীক্ষার্থীর মতো সকাল বেলাতেই খাতা-কলম গুছিয়ে যেতে শুরু করি শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে। তারপর একেবারে টানা চলতে থাকে গভীর অধ্যায়ন।