Wednesday, April 9, 2008

যাত্রা দেখে ফাত্রা লোকে…


কানা মামুন সমাচারদৈনিক ভোরের কাগজে কাজ করিবার সময় ২০০২ সালের দিকে যোগ দিলেন ফটো সাংবাদিক মামুন আবেদীন। তাহার সামান্য বায়ুচড়া দোষ আছে; এমনিতে লোক খারাপ নহে। ইতিপূর্বে তিনি দৈনিক আজকের কাগজে আমার সহকর্মি ছিলেন। সেই সুবাদে আমার কাছে নানান আব্দার ছিল তাহার।

Saturday, March 15, 2008

স্মৃতি রিছিল



গারো পাহাড়ে হিংস্র শ্বাপদের সঙ্গে যার নিত্য বসবাস, এই পাথুরে শহরে এসে অবশেষে জেনেছে সে, সবচেয়ে হিংস্র পশুর নাম মানুষ!...

প্রিয় স্মৃতি রিছিল,
তুমি হয়তো এখন আমাকে আর চিনবে না। না চেনাটাই অবশ্য খুবই স্বাভাবিক। তবে স্মরণ করিয়ে দেই, ১৯৯৫ সালে সাবেক কর্মস্থল দৈনিক আজকের কাগজে তোমাকে নিয়ে যে প্রতিবেদন লিখেছিলাম, তার সূচনা বক্তব্য ছিলো অনেকটা ওই রকম।

Sunday, March 9, 2008

মেথর পট্টিতে পানপর্ব...



চট্টগ্রামের খ্যাতনামা সাংবাদিক প্রদীপ খাস্তগীর অনেকদিন ঢাকায় অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। কাল সন্ধ্যায় আমি তাকে ধরে বসি, দাদা, আপনার সাংবাদিকতা জীবনের গল্প শুনবো। বিশেষ করে পাহাড়ের সাংবাদিকতার কিছু গল্প শুনতে চাই।

Saturday, March 8, 2008

নারীমুক্তি প্রসঙ্গে: কল্পনা চাকমা*





"পশ্চাৎপদ দেশে, এমন কি অগ্রসর পুঁজিবাদী দেশেও নারী-পুরুষের অধিকারের ক্ষেত্রে বাস্তবতা অনেক বৈষম্য আরো অনেক বেশী। বিশ্বের নারী সমাজ সুদীর্ঘকাল ধরে যে পুরুষ কর্তৃক অনেক নির্যাতীত হয়ে আসছে, বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে, সে সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশ্বজুড়ে পশ্চাৎপদ দেশেও সমাজে নারীদের পারিবারিক নিপীড়ন একই রকম। কিন্তু আমি মনে করি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি নারীরা বেশী নির্যাতীত। কেননা দীর্ঘকাল ধরে চলছে পাহাড়িদের জাতীয় অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র।

Saturday, February 23, 2008

তাসনিম খলিল...




ডেইলি স্টারের সাংবাদিক, ব্লগার তাসনিম খলিলকে মনে আছে? এই তো সেদিন আমাদের দেশপ্রেমিক সেনা বাহিনী একটি লেখার জন্য তাকে তুলে নিয়ে গেলো। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে চললো ফিসফিসানী। তারপর এক সময় চাপা গেলো মায়াময় মুখের এই কলম সৈনিকের কথা। ...

Wednesday, February 20, 2008

তোমাদের যা বলার ছিলো, বলেছে কি তা বাংলাদেশ?


এক। প্রজন্ম '৭১ এর সাইদুর রহমানের সঙ্গে আমার পরিচয় সাংবাদিকতার শুরুতে সেই ১৯৯২ - ৯৩ সালের দিকে। তখনও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে বর্তমান শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধটি গড়ে ওঠেনি। তবে সে সময় প্রজন্ম '৭১ নিজ উদ্যোগে একটি ছোট্ট স্মৃতিসৌধ গড়ে সেখানেই প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে আসছিলো। সরকারের কাছে এ নিয়ে তারা অনেক ধর্ণা দিয়েও সরকার পক্ষকে উদ্যোগি করতে পারেননি।

Tuesday, February 5, 2008

উমা এখন গর্তে পড়েছে...





আমার বন্ধু উমা কথাবার্তায় খুব চৌকশ, দেখতে সুন্দর, আর খুব হাসিখুশী। ও একটা লিটল ম্যাগাজিন চালাতো। সেই সুবাদে পরিচয়। একদিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দূর্গা পূজার মেলায় উমাকে দেখি এক যুবকের হাত ধরে ঘুরতে। ও আমাকে দেখে ডেকে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দেয়। বলেন, আমার বন্ধু, পেশায় লেখক।

Friday, February 1, 2008

দি লাস্ট আইভরি ম্যান





গজদন্ত শিল্পী বিজয়কেতন চাকমা এই শেষ বয়সেও ঘুমঘোরে ফিরে যান দূর অতীতে। উঁচু পাহাড় থেকে বন -জঙ্গল ভেঙে নামছে ম্যামথের মতো প্রমাণ আকৃতির বুনো হাতির পাল। তাদের তাণ্ডেব তটস্থ পুরো পাহাড়। উজাড় হয় জুমের সাজানো বাগান। অথচ আদিবাসী মানুষ একে মেনে নেয় পাহাড়ি জীবনের স্বাভাবিকতা হিসেবে।

Friday, January 18, 2008

আমাদের তাজ ভাই


দুর্ধর্ষ ক্রাইম রিপোর্টার আমিনুর রহমান তাজকে চেনেন না, গণমাধ্যমে এমন মানুষ বোধকরি আর নাই। চাকুরী জীবনের শুরুতে আমার সৌভাগ্য হইয়াছিল তাহার অধীনে তিন হাজার দুইশত টাকার অনিয়মিত বেতনে শিক্ষানবীশ ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে কিছুদিন দৈনিক আজকের কাগজে তালিম গ্রহণ করিবার।

ইতিপূর্বে লাশকাটা ঘর নামক লেখায় তাজ ভাইয়ের কথা সামান্য বলিয়াছি। আজ তাহার আরো কিছু কথা বলিতে চাই।...

মধ্য বয়সী মানুষ হইলে কি হইবে, বরাবরই দেখিতেছি, তাজ ভাই বড়ই সৌখীন। বেশভূষায় একটা ফুটবাবু, ফুটবাবু ভাব। সাদা শার্ট, শাদা প্যান্ট, চকচকে সাদা জুতা পরিয়া, চোখে সবুজাভ রেবান সানগ্লাস দিয়া যখন বেবি ট্যাক্সি উঠিতেন, আমি তাহার পাশে বসিয়া সুন্দর একটা গন্ধ পাইতাম। পরে শুনিয়াছি, ইহা ফরাসী ওডিকোলন -- চার হাজার সাত শত এগারো; তাহার কোন এক ভগ্নী নাকি বিদেশ হইতে আনিয়া দিয়াছে। আর তাহার মুখে প্রায়ই ঝুলিবে সোনার হোল্ডারে জ্বলন্ত বেনসন সিগারেট। মুঠি করিয়া সিগারেটে টান দিয়া টুশকি মারিয়া তাহার ছাই ফেলিবার কায়দাটিও দেখিবার মতো!

Wednesday, January 9, 2008

ফ্রিডম অব ডিপ্রেশন ইন বাংলাদেশ...



এই সমাজ বাস্তবতায় আমি বিচার চাই না, আমি শুধু বাঁচতে চাই -- রাজশাহীর সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আকাশ তাঁর ওপর সন্ত্রাসী হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে এই কথা বলে যখন কান্নায় ভেঙে পড়েন, তখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আইরিন খানের সঙ্গে সাংবাদিক - মানবাধিকারকর্মীদের পুরো মতবিনিময় সভায় নেমে আসে দীর্ঘ নিরবতা।

বুধবার সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির দৃক গ্যালারীর এই মত বিনিময় সভায় আকাশ বর্ণনা দিচ্ছেলেন, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করার দায়ে কী ভাবে সন্ত্রাসীরা তাঁকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে সারারাত ধরে পেটায়, বৈদ্যুতিক শক দেয়।...তার পাশেরই বসেছিলেন আরেক নির্যাতীত সাংবাদিক টিপু সুলতান। তিনি অবশ্য তখন আমার মতোই ব্যস্ত ওই মতবিনিময় সভার তথ্য সংগ্রহ করতে।