“রাত্তির ঘন হলে জমে উঠতে থাকে শব - দুদিন আগেই বর্জন করেছিলে যাকে, সেই প্লাস্টিক ব্যাগ তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে রেখেছে - প্রিয়জন ঘরে বন্দী - রাষ্ট্রীয় রক্ষীর সাথে ভ্যানে চড়ে চলেছ এমন দূরে, আর ফিরে আসা নেই - সে এক সময় যা ধকল গিয়েছে, চুপ করে বসে মনে পড়ে আর?” ... (মারণাস্ত্র সবক্ষেত্রে দৃশ্যমান নয়/বিষাণ বসু)
বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ। চাকমা ভাষায় ‘রাঙাবেল‘ কথাটির মানে ‘রাঙা প্রভাত‘। © কপিরাইট: লেখা ও ছবির স্বত্ত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত।
Monday, September 21, 2020
ভাইরাসের ভিতরে বসবাস
“রাত্তির ঘন হলে জমে উঠতে থাকে শব - দুদিন আগেই বর্জন করেছিলে যাকে, সেই প্লাস্টিক ব্যাগ তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে রেখেছে - প্রিয়জন ঘরে বন্দী - রাষ্ট্রীয় রক্ষীর সাথে ভ্যানে চড়ে চলেছ এমন দূরে, আর ফিরে আসা নেই - সে এক সময় যা ধকল গিয়েছে, চুপ করে বসে মনে পড়ে আর?” ... (মারণাস্ত্র সবক্ষেত্রে দৃশ্যমান নয়/বিষাণ বসু)
Monday, September 7, 2020
তাসের ঘর : দুর্দান্ত স্বস্তিকায় নারীমুক্তি?
“হইচই” মুভি স্ট্রিমে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত “তাসের ঘর” বাংলা ছবিটি নিঃসন্দেহে আট-দশটা বাজারী ছবির ভীড়ে ব্যতিক্রম, একই সঙ্গে ষোল আনা বাঙালিয়ানা, আবার হলিউডি ধাঁচেরও, এর বিভাগ করা যেতে পারে, নাটকীয়, রহস্য, রোমাঞ্চ ইত্যাদি।
Thursday, June 4, 2020
Sunday, May 24, 2020
করোনায় নিরানন্দ ঈদ
করোনা দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডব। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূল জেলা সাতক্ষীরার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে ভেসে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। তাই দোরগোড়ায় ঈদ এলেও সবকিছু ছাপিয়ে পানিবন্দি মানুষের এবারের লড়াইটা বহুমুখী। পানির হাত থেকে নিজের শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন শ্যামনগর জনপদের বাসিন্দারা। স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা। সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধি এখানে অবান্তর।
Tuesday, April 28, 2020
লকডাউনে শিথিলতা
প্রায় একমাস পর ঢাকা মহানগরীতে এলো অনানুষ্ঠানিক শিথিলতা। দ্বিতীয় রমজানে নগর পুলিশ জানালো, সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার বিক্রির করা যাবে। পাশাপাশি কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্য ও মুদি দোকান বেলা ২টার বদলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলো। অর্থাৎ, জনমানুষ চলাচলে শিথিলতার কথাই জানালো পুলিশ।
Tuesday, April 21, 2020
দম যেন মোর যায়…
লকডাউনের একেকটি সন্ধ্যারাতে ভূতের শহর ঢাকা মহানগরী। ছয় কিলোমিটার মাত্র
পথ। অফিস গাড়ি বাদে নিত্য হেঁটে ডেরায় ফেরা। মুখোশে, ক্যাপে, হেভারশেকে ও ঝুলন্ত আইডিতে পদাতিক
জবরজং।
অবশ্য এই রীতি বছর পঁচিশ বা তারও কিছু বেশী। রিপোর্টারের কর্মস্থল
বদলে বদলায় দূরত্ব, দুই, পনের হয়ে এখন ছয়।
সময়ে এখন উঁচু পদে পোর্টার, বাস্তবে নিউজক্লার্ক, নিতান্তই করে খাওয়ার চেষ্টা। মার্ক
টালির স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে সাপ্তাহিকীতে বলপয়েন্ট-নিউজপ্রিন্টে জীবন ক্ষয় করারকালেই।
আর এই সেদিন নাস্তিকব্লগার হ্যাশট্যাগে চাপাতিতন্ত্রের ব্লাসফেমাসে
হন্টনে বিরতি। দেহরক্ষীতেও কী অষ্টপ্রহর সুরক্ষা নিশ্চিত? বা কোমরবন্ধের খাপে আত্মরক্ষা?
অকাতরে অভিজিৎ রায়দের গলা কাটার আস্কারায় হোলি আর্টিজান গদিতে ছেটায়
সুলেখা কালি, কলংকের চেয়েও কালো। নিব্রাস গংদের অটোমেটিক আর ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে উল্টে
যায় পাশার দান।
Tuesday, March 31, 2020
ঘোল
অন্যকে না খাওয়ালেও নিজে বিস্তর ঘোল
খাননি, এমন বাঙালি মেলা দুস্কর। অর্থাৎ বাঙালি মাত্রই ঘাটে ঘাটে ঘোল খেয়ে থাকেন।
আমাদের শৈশবে রূপকথার বইতেও দেখেছি,
রাজা-রাজড়ার আমলে দুস্কৃতিকারীকে জুতোর মালা পরিয়ে, উল্টো গাধায় বসিয়ে,
মাথায় ঘোল ঢেলে রাজ্যের বাইরে বের করে দেওয়া হতো। ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’ ছবির শুরুতেও
বেসুরো গান ও বেতাল ঢোলের জন্য গুপি-বাঘাকে ওইরূপ শাস্তি ভোগ করতে দেখা যাবে।
Saturday, March 28, 2020
বাংলাদেশে সঙ্গরোধ?
করোনার কারণে ২৬
মার্চ, স্বাধীনতা দিবসের সকালেই ১৫ দিনের অনানুষ্ঠানিক লকডাউনের খপ্পরে দেশ। ট্রেন-লঞ্চ-বিমান
বন্ধ হয়েছে আগেই, বন্ধ হলো গণপরিবহন।
অবশ্য ঘোড়ার আগেই
গাড়ি ছুটেছে বেশ। প্রথম ঘোষণা এলো টানা স্কুল-কলেজ ছুটি। বাঙালিকে আর পায় কে? ‘ফেরারী
এই মনটা আমার, মানে না কোনো বাঁধা’…
দলে দলে সবাই বন্ধু-বান্ধব,
স্বপরিবারে ছুটলো কক্সবাজারে সাগরপাড়ে, অনেকেই সেন্ট মার্টিন প্রবাল দ্বীপে। উপচে পড়া
পর্যটকে রোহিঙ্গা উপদ্রুত সীমান্ত শহরটি ফিরে পায় প্রাণ। টিভির পর্দায় হেসে হেসে শিক্ষিত
ছেলেমেয়েরা বয়ান দেন, ‘পরীক্ষার পর এই লম্বা ছুটি, তাই বন্ধু-বান্ধব নিয়া দল বাইন্ধা
ঘুরতে আসছি, খুব মজা লাগতেছে’… ইত্যাদি।
Thursday, March 26, 2020
নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম...

১৯৭১ এর রক্তস্নাত বাংলাদেশে এমন ভোর কখনো আসেনি। করোনার কারণে দেশ এই প্রথমবারের মতো যেন ভুলে গেল স্বাধীনতা দিবস! আনুষ্ঠানিক-অনানুস্ঠানিক লকডাউনের খপ্পরে এই প্রথমবারের মতো সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখ লাখ জনতার ঢল তো দূরের কথা, তেমন কোনো শ্রদ্ধাঞ্জলিও পড়েনি। খা খা করছে স্মৃতিসৌধ, যেন ৩০ লাখ শহীদের আত্মা ঝাউবনের চিরল পাতার কম্পনে, বাতাসের ফিসফিসানীতে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, কী মাঝি? ডরাইলা?...
Thursday, March 5, 2020
প্রতিভা সরকারে তিন নোক্তা
এক.
“ত্রিশ বছর আগে উত্তরবঙ্গের সেরা গল্প সম্ভারে যাঁর লেখা অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল, লিটল ম্যাগাজিন বিশ্বের সেই পরিচিতমুখ প্রতিভা সরকার হঠাতই লেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। মধুপর্ণীর প্রয়াত সম্পাদক অজিতেশ ভট্টচার্য অনেক বলেও তাকে দিয়ে লেখাতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে কলমে মরচে পড়তে দেননি লেখক, ‘ফরিশতা ও মেয়েরা‘ বইটির গল্পগুলি তার প্রমান। গভীর মমতায় তিনি এঁকেছেন মূলত মেয়েদের, সাধারণ মানবী তারা, কিন্তু দিব্য বিভায় উদ্ভাসিত তাদের ঘামে ভেজা মুখ।“... ইত্যাদি।
এবার কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত প্রতিভা সরকারের গল্পগ্রন্থ ‘ফরিশতা ও মেয়েরা‘ বইয়ের শেষ ফ্ল্যাপে এরকম ছোট্ট পাঠ পরিচিতি তুলে ধরেছেন প্রকাশক। এটি একটি গুরুচণ্ডালির ‘বাংলা চটি সিরিজ‘ প্রকাশনা। হালকা-পাতলা গড়নের ছোটখাট পেপারব্যাক বইটির ঝকঝকে ছাপা, বিমূর্ত ছবিতে চমৎকার প্রচ্ছদ, ১০৮ পৃষ্ঠার নির্ভুল বানানে এর দামও পাঠকের হাতের নাগালে – ভারতে ৯০ টাকা, আর এপারে ১৩৫ টাকা (প্রায়)। প্রচ্ছদ এঁকেছেন বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী, ভূমিকা লিখেছেন অমর মিত্র। সম্ভবত, এটি লেখিকার প্রথম বই।
“ত্রিশ বছর আগে উত্তরবঙ্গের সেরা গল্প সম্ভারে যাঁর লেখা অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল, লিটল ম্যাগাজিন বিশ্বের সেই পরিচিতমুখ প্রতিভা সরকার হঠাতই লেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। মধুপর্ণীর প্রয়াত সম্পাদক অজিতেশ ভট্টচার্য অনেক বলেও তাকে দিয়ে লেখাতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে কলমে মরচে পড়তে দেননি লেখক, ‘ফরিশতা ও মেয়েরা‘ বইটির গল্পগুলি তার প্রমান। গভীর মমতায় তিনি এঁকেছেন মূলত মেয়েদের, সাধারণ মানবী তারা, কিন্তু দিব্য বিভায় উদ্ভাসিত তাদের ঘামে ভেজা মুখ।“... ইত্যাদি।
এবার কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত প্রতিভা সরকারের গল্পগ্রন্থ ‘ফরিশতা ও মেয়েরা‘ বইয়ের শেষ ফ্ল্যাপে এরকম ছোট্ট পাঠ পরিচিতি তুলে ধরেছেন প্রকাশক। এটি একটি গুরুচণ্ডালির ‘বাংলা চটি সিরিজ‘ প্রকাশনা। হালকা-পাতলা গড়নের ছোটখাট পেপারব্যাক বইটির ঝকঝকে ছাপা, বিমূর্ত ছবিতে চমৎকার প্রচ্ছদ, ১০৮ পৃষ্ঠার নির্ভুল বানানে এর দামও পাঠকের হাতের নাগালে – ভারতে ৯০ টাকা, আর এপারে ১৩৫ টাকা (প্রায়)। প্রচ্ছদ এঁকেছেন বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী, ভূমিকা লিখেছেন অমর মিত্র। সম্ভবত, এটি লেখিকার প্রথম বই।
Subscribe to:
Posts (Atom)




