Tuesday, November 26, 2013

রক্তের ধারা পেছনে যায় না

জেনারেল এরশাদ সরকার বিরোধী ছাত্র-গণআণ্দোলনের উত্তাল দিন। প্রতিদিনই ছাত্র মিছিলে পুলিশী হামলা হচ্ছে, গুলি হচ্ছে। ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে প্রতিদিনই ঝরছে রক্ত। এরকমই একটি দিন ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বরের সকাল সাড়ে ৯টা। স্থান মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার প্রবেশপথগুলোতে কড়া দাগা-পুলিশী প্রহরা। ঘোষিত ছাত্র-গণসমাবেশ যেন কিছুতেই সফল হতে না পারে, সে জন্য ঢাবি’র ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখে তবেই ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি মিলছে। বুয়েট, ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, তেঁজগা কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজসহ পুরনো ঢাকার আরো অনেক কলেজ, সে সময়ের কৃষি কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ [এখন বিশ্ববিদ্যালয়]সহ আরো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একে একে বিশাল সব ছাত্র মিছিল সবদলীয় ছাত্র এক্য’র ব্যানারে ঢাবি ক্যাম্পাস মুখি হতে থাকে। মিছিলের সবার হাতে হাতে লাঠিশোটা।

Wednesday, October 23, 2013

অদিতি ফাল্গুনির বাম-বিকার-০১


প্রখ্যাত লেখিকা অদিতি ফাল্গুনি দেশের প্রগতিশীল বামপন্থী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন। আন্তর্জালের নানা নোটে তিনি একের পর এক বয়ান করে চলেছেন নানা কু-তর্ক, যেটি স্পষ্টতই এখন তার বিকারে পরিনত হয়েছে। জগতে [এমনকি জগতের বাইরেও] নানান কিসিমের বিষয় থাকলেও একজন কথা-সাহিত্যিক হঠাৎ করেই দেশের আপাত ক্ষমতাহীন বাম দলগুলো নিয়ে কেন মাথা ঘামাচ্ছেন? এতে সাহিত্যের কি এমন উপকার হচ্ছে? কেনোই বা সাইবার স্পেসের এই বিস্তর অপচয়?

Wednesday, October 2, 2013

লং মার্চ: রোড টু রামপাল



উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন
না ছাই,
রামপালে কাপ্তাই লেকের
কান্না শুনতে পাই...


চলেছে লং মার্চ। ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে শুরু হলো ছাত্র-জনতার বিশাল বহরের রামপাল অভিমুখে যাত্রা। সুন্দরবন রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় সকলের চোখে-মুখে। মাথার ওপরে গনগনে সূর্য। খর রোদ, ভ্যাপসা গরম।

Wednesday, September 18, 2013

বাংলা ব্লগের ওপর নয়া খড়্গ

আবারও খড়্গ নেমে এসেছে বিকল্প গণমাধ্যম বাংলা ব্লগের ওপর। দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্লগসাইট আমারব্লগ ডটকম জানাচ্ছে, গত ছয় মাসে অন্তত তিন দফায় তাদের ব্লগ সাইটটি বাংলাদেশে বন্ধ করা হয়েছে।  

Friday, September 6, 2013

রুবেলের পাঠশালা

সার-সংক্ষেপ: বন্ধু গো, আজি তোমায়, বড়ো বেশী প্রয়োজন…
মাসে মাত্র হাজার ২০ টাকার যোগান দেওয়া গেলেই প্রান্তিক শিশুদের আলোর ইস্কুলটি দাঁড়িয়ে যায়। ব্যক্তি প্রতিষ্ঠার মোহ ছিন্ন করে রুবেলরা অনেক কষ্টে চালাচ্ছেন বিদ্যালয়টি। আশাপাশের আর ১০টা মধ্যবিত্তের বিদ্যালয়ের চেয়ে ‘স্কুল ড্রেস ও টিফিন বিহীন’ বস্তির ছেলেমেয়েদের বিদ্যানিকেতনটির ফলাফলও ভালো।

Thursday, August 22, 2013

মহাশ্বেতার সঙ্গে ইলিয়াসের সংলাপ: শালগিরার ডাকে

[প্রায় এক যুগ আগে ভারতের বিশিষ্ট লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে প্রয়াত লেখক আখতারুজ্জমান ইলিয়াসের একটি দীর্ঘ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই অসমাপ্ত সংলাপে উঠে আসে মহাশ্বেতা দেবীর জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট নানা ভাবনা। বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সাহিত্য পত্রিকা ‘তৃণমূল’ এর পঞ্চম সংখ্যা, মার্চ ২০০১ সালে সংলাপটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি সম্পাদক আনু মুহাম্মদের অনুমতিক্রমে ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নেয়া মহাশ্বেতা দেবীর সাক্ষাৎকার’ শীর্ষক লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে ধারাবাহিকভাবে এই প্রথম আন্তর্জালে প্রকাশিত হচ্ছে। -- অনুলেখক]

পূর্বকথা
০২. মহাশ্বেতা দেবী: ...মুন্ডাদের মধ্যে, আমি খেরিয়াদের মধ্যে যে ধরণের কাজ করি, সেরকম কাজ করার ছিল না। কিন্তু ওদের সংগঠিত করার ছিল। সেটা আমি সব সময় বিশ্বাস করি, ওরা নিজেরাই সংগঠিত হোক। মিনিমাম কতোগুলো কাজের ভিত্তিতে ওরা নিজেরাই সংগঠিত হোক। ওদেরকে পলিটিক্যাল ফোর্স বলে মনে করা হতো। সেটা সব সময় মিথ্যাও হয়নি।

তাই...মুন্ডা গেল...অঞ্চলের দিকে মুন্ডা, ওঁরাও সব আর মাঝামাঝি তো সব চলছেই; ইট ভাটার শ্রমিক, সেসব ইনভেস্টিগেট করে লেখাটেখা, কংক্রিট কাজের মধ্যে আমি বেশী বলবো যে ‘ক্রিমিনাল ট্রাইব’ এ শব্দের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষিত হল।

Thursday, August 15, 2013

মহাশ্বেতার সঙ্গে ইলিয়াসের সংলাপ: অরণ্যের অধিকার

[প্রায় এক যুগ আগে ভারতের বিশিষ্ট লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে প্রয়াত লেখক আখতারুজ্জমান ইলিয়াসের একটি দীর্ঘ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই অসমাপ্ত সংলাপে উঠে আসে মহাশ্বেতা দেবীর জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট নানা ভাবনা। বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সাহিত্য পত্রিকা ‘তৃণমূল’ এর পঞ্চম সংখ্যা, মার্চ ২০০১ সালে সংলাপটি প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি সম্পাদক আনু মুহাম্মদের অনুমতিক্রমে ‘আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের নেয়া মহাশ্বেতা দেবীর সাক্ষাৎকার’ শীর্ষক লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে ধারাবাহিকভাবে এই প্রথম আন্তর্জালে প্রকাশিত হচ্ছে। -- অনুলেখক]

Saturday, August 10, 2013

শঙ্খ যাইও বন্ধুর বাড়ি, শঙ্খ কইও আমি তারই...


আমরা যখন মায়াদ্বীপে পৌঁছাই, তখন দুপুর। মেঘনার ঘোলা জলের মতোই আকাশও কিছুটা ঘোলাটে। টানা বৃষ্টির পরও আকাশের মুখ গোমড়াভাব যেনো কাটছেই না। নদীর বাতাসও কেমন যেনো থমকে আছে বলে মনে হয়।

দুটি বিশাল ট্রলার প্রায় একশ ‘ঢাকার মানুষ’ নিয়ে কবি শাহেদ কায়েসের দ্বীপটিতে পৌঁছানোর পর আমাদের চোখে পড়ে চারিদিকে সবুজ আর সবুজ। সামনে দিগন্তজোড়া মাঠ, একপাশে গ্রামের আভাষ। দূরে এক চিলতে মেঘনা, কি এক আশ্চর্য উপায়ে রোদ চুরি করে ঝলসে যাচ্ছে।


আগত দলটিকে স্বাগত জানাতে চরের মানুষ প্রস্তুত। মাঠের একপাশে লাল-নীল ডোরাকাটা ছোট্ট শামিয়ানারা নীচে সারি সারি প্লাস্টিকের চেয়ার। ভসভসে শব্দের মাইকে ভেসে আসছে মোবাইল ফোনে বাজানো পল্লীগীতি। আমাদের দলের নারী-পুরুষেরা সাংবাদিক, লেখক, ব্লগার, কবি, শিক্ষক, ব্যংকারসহ নানান পেশার। দলে শিশুও রয়েছে আট-দশজন। তবে দল সদস্য, মায়াদ্বীপে জড়ো হওয়া আমাদের তখন একটাই পরিচয় -- আমরা কবি শাহেদ কায়েসের বন্ধু। 

Thursday, August 8, 2013

আদিবাসী নিয়ে ভুলে ভরা পাঠ্য বই

গারোরা বাঙালিদের মতো স্বাভাবিক খাবারই খায়। খাসিরা বাবাকে দেবতা মনে করে পূজা করে। ছেলেরা পরে পকেট ছাড়া জামা ও লুঙ্গি। ম্রোরা সাধারণত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। পুরুষরা সাদা খাটো কাপড় পরে। তাদের অন্যতম সুস্বাদু খাবারের নাম 'নাপ্পি'। ত্রিপুরাদের ঘর সাধারণত চাকমা ও মারমাদের তুলনায় উঁচু। ত্রিপুরা শিশুরা 'খিলা' (গিলা) নামের বিচি দিয়ে খেলতে ভালোবাসে। গারো ও খাসিদের নিজস্ব বর্ণমালা নেই।

Tuesday, August 6, 2013

অভিবাদন বাংলাদেশ

তোমার ভাঁজ খোলো, আনন্দ দেখাও, করি প্রেমের তর্জমা/ যে বাক্য অন্তরে ধরি নাই দাঁড়ি তার, নাই কমা

বৃষ্টিস্নাত কচি ধানের চারাগুলো বাতাসে মায়াবি দোল খাচ্ছে। সবুজে চোখ জুড়িয়ে যায়। অহরাত্র অক্লান্ত পরিশ্রম মুহূর্তেই যেনো উবে যায় একেবারে।

সাত-সাতটি বছর নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সার, মাটি, বীজতলার মান যাচাই, অন্যের ভূঁইচাষের পূর্ব অভিজ্ঞতা তো আছেই। একেই পুঁজি করে এবার নিজের হাতের চাষাবাস। এর মাধুর্যই আলাদা। মমতাটি শিশুর প্রতি পিতার বাৎসল্য সম প্রায়।