Tuesday, October 12, 2010

ঘড়িঘর...

০১. ঘড়ি নিয়ে একটি দীর্ঘতম অবসেশন আমৃত্যূ তোমাকে তাড়া করে ফিরবে নিশ্চিত।

সেই যে ছেলেবেলায় রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে তুমি মনছবিতে আঁকতে একটি বিশাল ডায়ালের গ্রান্ডস ফাদারস্ ক্লক। কাঁটা দুটি বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে যখন উলম্ব আকারে সোজা হয়ে দাঁড়াতো, অর্থাৎ কি না ভোর ছয়টা, তুমি মনে মনে শুনতে পেতে ঢং...ঢং...ঢং...কলজে-কাঁপানো ছয়-ছয়টি ঘন্টাধ্বনি।

Sunday, August 22, 2010

সরেজমিন দিনাজপুর: দখলদারদের থাবায় আদিবাসীদের জমি


বিপ্লব রহমান, দিনাজপুরের আদিবাসী অঞ্চল থেকে ফিরে:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার চক বানারসি সাঁওতাল আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দা সালগিন হেমরমের (৭০) স্বামী চণ্ডু মার্ডি মারা গেছেন বছরখানেক আগে। একমাত্র ছেলেটিও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। স্বামী মারা যাওয়ার পর বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁর আট একর ধানি জমি দখল করে বসেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। জমি হারিয়ে বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষে করে দিন কাটছে তাঁর। 

Sunday, August 15, 2010

শঙ্খ নদী: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা



এক.পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা ধারায় নয়নাভিরাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন ৫,০৯৩ বর্গমাইল। বাংলাদেশের এক কোনে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান– এই তিন জেলা নিয়ে গড়ে ওঠা পার্বত্যঞ্চালে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে আনুমানিক প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস করেন।

মায়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম বান্দরবান জেলার আয়তন ৪,৪৭০ বর্গ কি.মি.। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিনডং (উচ্চতা ১০০৩ মিটার) এই জেলায় অবস্থিত, যা বিজয় বা মদক মুয়াল নামেও পরিচিত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (উচ্চতা ৮৮৩ মিটার) এবং সর্বোচ্চ খাল রাইখিয়াং-ও বান্দরবানে অবস্থিত। [লিংক] জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ।

Tuesday, August 10, 2010

আইটি’তে কতদুর এগোল বাংলা?


এই যে এখন কম্পিউটারে দু-একটি বোতাম টিপেই খুলে বসেছি প্রিয় ব্লগ পাতা, অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস, ঠিক এমনটি কী আমরা ভাবতে পেরেছিলাম বছর দশেক আগে? নিঃসন্দেহে এটি তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতি তথা ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় বাংলা ভাষারই অগ্রগতি। আচ্ছা, বাংলার এই উল্লম্ফন শুরু হলো কবে থেকে?

Friday, August 6, 2010

মন কেনো এতো কথা বলে?…


এক. 
জীবনের অনেকটা বাঁক পেরিয়ে আমি আমার ছোট্ট বন্ধু মানিকের কথা ভুলতে বসেছিলাম। বছর দশেক আগে বিবিসির বাংলা বিভাগের (এখন ফ্রি ল্যান্স উন্নয়ন কর্মী) কুররাতুল আইন তাহমিনা, আমাদের মিতি আপার টেলিফোনে এক লহমায় মনে পড়ে যায় হারিয়ে যাওয়া সেই কালো মানিকের মায়াময় মুখ।

মিতি আপা জানতে চান, আপনার কী মানিকের কথা মনে আছে?

আমার প্রথমেই সাংবাদিক মানিকের নাম মনে পড়ে।
মিতি আপা বলেন, আরে না, আমি টোকাই মানিকের কথা বলছি, ওই যে সে নাকি এক সময় আপানাদের সাথে দল বেঁধে ঘুরতো। আর খুব সুন্দর গান করতো।…

হ্যাঁ, মনে আছে। কিন্তু কেনো?

সময় থাকলে আপনি এখনই বিবিসির ইন্দিরা রোডের অফিসে চলে আসুন। খুব জরুরী।

Wednesday, July 28, 2010

আমি যারে ভালবাসি, তারে আবার বাসি না…


আটের দশকে এসএসসি পরীক্ষার পর আমার স্কুলের বন্ধুরা কেউ স্পোকেন ইংলিশ, কেউ বেসিক ইংলিশ, কেউ বা শর্টহ্যান্ড-টাইপরাইটিং বা কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হয়ে গেল। তখন আমেরিকা যাওয়ার খুব ক্রেজ। এবং মাইকেল জ্যাকসন।…


আমি এ সব কিছুর কোনোটাই করিনি। একেবারে সিরিয়াস পরীক্ষার্থীর মতো সকাল বেলাতেই খাতা-কলম গুছিয়ে যেতে শুরু করি শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে। তারপর একেবারে টানা চলতে থাকে গভীর অধ্যায়ন।

Friday, July 23, 2010

জোছনা করেছে আড়ি…


এক.কবি শহীদ কাদরীর প্রথম প্রেমিকা, প্রথম স্ত্রী পিয়ারী বছর আটেক আগে এসেছিলেন ঢাকায়। বার্লিন প্রবাসী প্রায় ৬০ বছর বয়সী পিয়ারী এখনো দারুন সুন্দর, উজ্জল। ঢাকা ক্লাবের এক পার্টিতে কোনো এক সাংবাদিক বন্ধু পরিচয় করিয়ে দেন তার সঙ্গে।
পানপ্রীতি, সাংবাদিকতা, নাকি অন্য কোনো কারণে জানি না, কেনো যেনো দ্রুত বন্ধুত্ব হয় তার সঙ্গে। পিয়ারী নিমন্ত্রণ করেন একসন্ধ্যায় তাকে সময় দেবার।


Saturday, July 17, 2010

জুম চাষ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা


[ও ভেই যেই বেক্কুনে মিলি জুম কাবা যেই/পূব ছড়া থুমত বর রিজেভ' টুগুনোত/ পুরান রাঙ্গা ভূঁইয়ানি এবার বলি উত্যে হোই চেগার/ সে জুমোনি এ বঝরত মিলিমুলি খেই।...চাকমা কবিতা...ও আমার ভাই বন্ধুরা চল চল সকলে মিলে জুম কাটতে যাই/ বড় বড় পাহাড়ের চূড়ায়/ দূরের পূর্ব ছড়ার শেষ সীমানায়/আগে জুম করা ভূমিগুলো উর্বর হয়েছে/এ বছর মিলে-মিশে সেগুলো চাষ করে খাবো।...জুম কাবা, সলিল রায়, রান্যাফুল।]

Saturday, July 10, 2010

টোস্টার…


এক.হাভাতে বুড়িটি ভাতের সন্ধানেই কোনো এক আত্নীয় সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন। তার জন্ম উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর রংপুরের মঙ্গা পীড়িত কোনো এক দূর্গম গ্রামে। তাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, অনিবার্য এক অচিন ক্ষুধা আজন্ম চিটচিটে ঘামের মতো লেপ্টে থাকে তার জঠরে, গতরে এবং সর্বাঙ্গে। বুড়ির জীবনের গল্পটিও তাই মঙ্গা উপদ্রুত অন্চলের অন্যান্য বুড়ির মতো অতি সংক্ষিপ্ত এবং স্যাঁতসেঁতে টাইপের পুরনো। তাই আসুন, এই পর্বটুকু আমরা বরং এক বাক্যেই সেরে নেই :

Sunday, July 4, 2010

শিরোনামহীন

আম পাতা জোড়া জোড়া 
তৎকালে লোকে প্রেমকে লাইন বলিতো। আমাদিগকে বলা হইয়াছিলো, ইহা ভালো নয়। ভাবেসাবে আমরা বুঝিয়াছিলাম, লাইন একটি বখাটেপনা, সামাজিক অপরাধ বিশেষ। …

এই ঢাকা তখন সেই ঢাকা ছিলো না। ফুলবাড়িয়াতে ছিলো রেল স্টেশন। রিকশাই ছিলো সর্বত্র জনপ্রিয় বাহন। ইপিআরটিসি’র লাল দোতলা বাস বিআরটিসি হইয়াছে মাত্র। বাবার হাত ধরিয়া সেই দোতলা বাসে চাপিয়া মিরপুর-ফুলবাড়িয়া ভ্রমন করিয়া জীবনকে মনে হইয়াছিলো সার্থক। রমনা পার্কের দোলনায় আবার কবে চড়িবো, সেই ভাবনায় ছোট্ট শিশু মন কতই না রঙিন স্বপ্ন আঁকিয়াছিলো। …কিন্তু ‘ছেলেধরা’ নামক আতঙ্কে আমাদের ঘরে বন্দি থাকিতে হইতো। গ্রাম হইতে আসা ‘কামলা’ অমুক ভাইয়ের হাত ধরিয়া ইস্কুল-বাসা-দোতলা বাসার ছাদ অবধি ছিলো আমাদের দৌরাত্ন।