Friday, August 26, 2011

ফুলবাড়ি- লাল সেলাম!



দিনাজপুর প্রতিনিধি খবর দেওয়ার আগেই ফুলবাড়ি গণবিদ্রোহে গুলি চালানোর প্রথম খবর পাওয়া হয় আন্দোলনের বন্ধুদের কাছ থেকে। তারাই ঘটনাস্থল থেকে জানান, তখনো গুলি আর টিয়ার শেল বর্ষণ চলছে। খবরটি নিশ্চিত করার জন্য সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুরে পরিচিত সাংবাদিকদের টেলিফোন করা হয়।

Wednesday, August 24, 2011

বগালেক


দূর্গম পাহাড়ে ডিসেম্বরের ভোরে হীম বাতাসের কামড় ছাপিয়ে প্রধান হয়ে ওঠে দৃষ্টি আচ্ছন্ন করা কুয়াশা নয়, নারকেল দুধের মতো ঘন সাদাটে ধোঁয়াশা। শীতলতায় হাত-পা অবশ হয়ে আসতে চায়, ঘোলাটে চশমার কাঁচ বাস্পাচ্ছন্ন হয়ে আসে, তখন হাত তিনেক দূরের দৃষ্টিও বুঝি অসাড়। কুয়াশা জমে জমে বৃষ্টির মতো টুপটাপ ঝরে পড়ে জলকনা অরণ্য সবুজের মগডাল থেকে। ভিজিয়ে দেয় পোষাক-আশাক,ব্যাগ-ব্যাগেজ,সর্বোস্ব। দূরে রাতজাগা কোনো পাখি কর্কশ স্বরে ডেকে বলে, হুঁশিয়ার!

Friday, August 19, 2011

আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় পড়বে কবে?


যতবারই দূর পাহাড়ে যাওয়া হয়, আদিবাসী পাহাড়ি জনপদের আনন্দ-হাসি-গান, দুঃখ-বেদনা, সীমাহীন নিপীড়ন ও সংগ্রামের ভেতরের অন্তর্দশন এবং তথ্য সাংবাদিকতার বাইরেও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয় পাহাড়ি শিশুদের মনছবি।

গণহত্যা, যুদ্ধ, শান্তি, ভাতৃঘাতি সন্ত্রাস, সেনা-সেটেলার সহিংস আক্রমণ, এমন কী হালের আদিবাসী বিতর্ক-- এমন রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত পাহাড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেড়ে ওঠা পাহাড়ি শিশু মনের প্রতিক্রিয়া কী, তা বুঝতে চেষ্টা করা হয়। জাতিগত নিস্পেষন ও হিংসার দাবনল দেখতে দেখতে এই সব শিশুও কি আগামী দিনে হিংসার আগুন বুকে নিয়েই বড় হচ্ছে? তারাও কি একদিন ফিরিয়ে দেবে পাল্টা প্রতিটি আঘাত?

Thursday, August 11, 2011

বাঘাইছড়ির আশ্চর্য দেবশিশুগণ



প্রায় দেড় বছর আগে ১৯-২০ ফেব্রুয়ারিতে রাঙামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ির সংহিংসতার ঘটনাটি কী মনে আছে? সে সময় জায়গা-জমি দখলের উন্মোত্ত সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন কয়েকটি গ্রামের আদিবাসী পাহাড়িরা। অন্তত দু-জন আদিবাসীকে সেনা ও সেটেলার বাঙালিরা নির্মমভাবে হত্যা করে। হিংসার অনলে পুড়ে যায় আদিবাসী গ্রাম, বৌদ্ধ মন্দির, স্কুল, হাট-বাজার।...

Thursday, August 4, 2011

চিম্বুক পাহাড়ে বিপন্ন ম্রো জনপদ


বন বিভাগ আর সেনা বাহিনীর নানান ভূমি অধিগ্রহণে বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাসিন্দা ম্রো জনজাতির অস্তিত্ব এখন হুমকি মুখে। সেনা বাহিনীর অধিগ্রহণের মাত্রাই বেশী।

উচ্ছেদ হতে হতে প্রধানত ম্রো,মারমাসহ চিম্বুক পাহাড়ের আদিবাসী ও স্থায়ী বাঙালিরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অধিগ্রহণ আর বহিরাগত অভিবাসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে জুম চাষ (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরণের চাষাবাদ)। উজাড় হতে বসা বনে শিকারও বন্ধ বহু বছর।

এ নিয়ে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাবেক কর্মস্থল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ প্রথম প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। সে বার শীতের রাতে সেনা অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছিলো ৭৫০টি ম্রো পরিবার।
 

Thursday, July 28, 2011

বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই?


আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি শুধু পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, একজন সফল চিকিৎসকও। মন্ত্রী হওয়ার আগে ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসে তিনি সন্তু লারমার নেতৃত্বাধিন শোভাযাত্রার মিছিলে এরকম হাসিমুখেই যোগ দিয়েছিলেন। তখন আদিবাসীর অধিকার আদায়ের পক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্যও রেখেছেন। আর এখন নিজের স্মৃতিশক্তির চমৎকার অস্ত্রপচার করে আপামনি বলেছেন, দেশে নাকি কোনো আদিবাসী নেই! এই বক্তব্যের সমর্থনে তিনি সংবিধানটিও ভুলভাল উদ্ধৃত করেছেন।

Monday, July 11, 2011

আমরা শোকাহত, আমরা ক্ষুব্ধ…

আমরা** গভীরভাবে শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ । বিশিষ্ট সান্তাল আদিবাসী লেখক, সহব্লগার মিথুশিলাক মুরমু’র [লিংক] বিধবা স্কুল শিক্ষক বোন মরিয়ম মুরমুকে (৫৫) গত রোববার সন্ত্রাসীরা রাজশাহীর গ্রামের বাড়িতে গণধর্ষন ও বিভৎস শাররীক নির্যাতনের পর হত্যা করেছে। পৈশাচিক ঘটনাটি এখান্ই শেষ নয়, হত্যার পর সন্ত্রীরা আদিবাসী বোনটির নগ্ন লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখে প্রতিহিংসাও মিটিয়েছে। …

Saturday, January 8, 2011

খাসিয়া গ্রামে গাছ কাটার মহোৎসব!


বিপ্লব রহমান, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার থেকে ফিরে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত খাসিয়া আদিবাসী দুটি গ্রাম নাহার পুঞ্জি-১ ও নাহার পুঞ্জি-২-এর প্রায় চার হাজার প্রাকৃতিক গাছ কেটে ফেলতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট চা বাগানের মালিক। গাছগুলো রক্ষায় আদিবাসীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এবং প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পায়নি। আদিবাসীরা বলছে, এসব গাছ না থাকলে খাসিয়াদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পান জুম (পাহাড়ের ঢালে বিশেষভাবে পানচাষ) ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন গ্রাম থেকেই উচ্ছেদ হয়ে যেতে হবে তাদের। অন্যদিকে নাহার চা বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, চা উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকায় গাছগুলো কেটে চা বাগান সম্প্রসারণ করা জরুরি। তাই উচ্চ আদালত, প্রশাসন ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই তারা গাছ কাটতে শুরু করেছে।

Wednesday, November 10, 2010

এমএন লারমা স্মরণে : : মঞ্জু’র কিছু স্মৃতি, কিছু কথা…


লিখেছেন: জ্যোতিপ্রভা লারমা*
আমাদের পরিবার
আমাদের ঠাকুরদাদা চানমুনি চাকমা ও তাঁর অন্যান্য ভাইদের বাসস্থান ছিল প্রথমে ‘কেরেতকাবা’ নামক স্থানে, (রাঙামাটির) মাওরুম ছড়ার উৎপত্তিস্থল সত্তা-ধ্রুং এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে। পরে দাদুরা চলে আসেন এই মহাপুরমে (মাওরুম)। বাবারা তিন ভাই। সবার বড় কৃষ্ণ কিশোর চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ; মেঝোভাই হরকিশোর চাকমা, তখনকার সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন; আর সবার ছোট চিত্ত কিশোর চাকমা, আমাদের পিতা। আমাদের মায়ের নাম সুভাষিণী দেওয়ান, খাগড়াছড়িস্থ খবংপয্যা গ্রামের রমেশ চন্দ্র দেওয়ানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। আমার তিন ভাই যথাক্রমে– শুভেন্দু প্রভাস লারমা (বুলু), মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (মঞ্জু), সবার ছোট জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু) আর আমি সবার বড় বোন জ্যোতিপ্রভা লারমা মিনু। আমি মঞ্জুকে আদর করে ডাকতাম ‘চিক্ক’ বলে।

Tuesday, October 12, 2010

ঘড়িঘর...

০১. ঘড়ি নিয়ে একটি দীর্ঘতম অবসেশন আমৃত্যূ তোমাকে তাড়া করে ফিরবে নিশ্চিত।

সেই যে ছেলেবেলায় রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে তুমি মনছবিতে আঁকতে একটি বিশাল ডায়ালের গ্রান্ডস ফাদারস্ ক্লক। কাঁটা দুটি বনবন করে ঘুরতে ঘুরতে যখন উলম্ব আকারে সোজা হয়ে দাঁড়াতো, অর্থাৎ কি না ভোর ছয়টা, তুমি মনে মনে শুনতে পেতে ঢং...ঢং...ঢং...কলজে-কাঁপানো ছয়-ছয়টি ঘন্টাধ্বনি।