Sunday, July 5, 2015

‘পাল্টে যাওয়া বিজ্ঞাপনে বিপদ আছে’

  
বিপ্লব রহমান, ঢাকা: কেমন হবে বিজ্ঞাপনের ভাষা, তা নিয়ে যেন আলোচনার অন্ত নেই। প্রতিদিন টেলিভশনে, সংবাদপত্রে অথবা নগরীর বিশালাকায় বিলবোর্ডে যেসব ভাষায় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, তার অনেকগুলো উদ্রেক করে বিরক্তির। এসব বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয় যেসব চটুল ভাষা, তাতে শিক্ষণীয় তেমন কিছু থাকে না। পণ্য বিক্রির জন্য আমরা কি মেনে নেবো এসব চটুলতা? নাকি আমরা এসব অপশব্দের ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই দেখবো?


এসব প্রসঙ্গে নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র সঙ্গে তাঁরকা নাট্যাভিনেতা হাসান মাসুদ করেছেন একান্ত আলাপচারিতা। তার মতে, পাল্টে যাওয়া এসব বিজ্ঞাপনের ভাষায় রয়েছ বিপদের হাতছানি। কারণ গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের অপশব্দ শিশুর মনোস্তাত্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর বড়দের জন্য তা তৈরি করে বিরক্তির।

হাসান মাসুদ বলেন, সাধারণ শিক্ষিত মানুষ বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন অপশব্দ বা চটুল কথায় হয়তো বিরক্ত হয়। কিন্তু এসব কথা তাদের ওপরে তেমন প্রভাব ফেলে না। বাংলা ভাষার ওপরেও এর তেমন কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু এসব বিজ্ঞাপন শিশুর মনোস্তাত্ত্বিক বিকাশে বিরাট ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। আর এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে গণমাধ্যমকেই।

‌জনপ্রিয় কয়েকটি বিজ্ঞাপনে ‘ডাইরেক্ট ভাইঙ্গা দেবানে’, “এত্তো ইয়াম্মি, বেরিয়ে আসে ভেতরের বাচ্চামী” অথবা “হাজার হাজার শেয়ার দিয়া উড়ায়া দেবো” – ইত্যাদি অপশব্দের ব্যবহারের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাসান মাসুদ বলেন, ‘পণ্যের বিক্রি বাড়ানোই বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য। তাই বিজ্ঞাপন দাতারা ক্রেতা আকৃষ্ট করতে এসব ব্যতিক্রমী কথা ভাষা ও অপশব্দ ব্যবহার করছে। এর মধ্যে জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসনের ‘ভাইঙ্গা দেবানে’ আবার খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমে এই কথাটি অনেকে ব্যবহারও করছেন। সেদিক থেকে বিজ্ঞাপনটি হয়তো সফল।’

খ্যাতিমান এই অভিনেতা আরো বলেন, ‘আমরা যারা প্রাপ্ত বয়স্ক ও শিক্ষিত আমাদের তো এসব বিজ্ঞাপন থেকে শেখার কিছু নেই। খুব বড়জোর আমরা রেডিও-টিভি বা পত্রিকায় এসব বিজ্ঞাপনে খানিকটা বিরক্ত হই। মূল বাংলা ভাষা বা বাঙালি সংস্কৃতিতেও এর তেমন হয়তো প্রভাব নেই। কিন্তু শিশুরা এসব বিজ্ঞাপন দেখে অপশব্দগুলো চট করে রপ্ত করে ফেলছে। তারা হয়তো ভাবতে পারে, এসব কথাও ভাষার অংশ। অথবা এটিই মূল ভাষা। আর বিপদটি লুকানো রয়েছে এইখানে।’

বিজ্ঞাপন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে পাল্টে যাওয়া বিজ্ঞাপনের ভাষার ব্যবহার বন্ধ করা কি সম্ভব? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক বিবিসি’র সংবাদদাতা হাসান বলেন, ‘শুধু নীতিমালায় বোধহয় কাজ হবে না। কারণ, কোনটি ভালো বিজ্ঞাপন, আর কোনটি খারাপ বিজ্ঞাপন, তার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। এসব বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে গণমাধ্যমকেই। গণমাধ্যম যদি এসব বিজ্ঞাপন গ্রহণ বন্ধ করে, তাহলেই বিজ্ঞাপন নির্মাতারা সতর্ক হবেন। তারাও এসব বিজ্ঞাপন আর বানাবেন না।’

‘গণমাধ্যমের প্রায় সবটুকুই ব্যয় বহন করছে বিজ্ঞাপন’, এমন তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে আসলে গণমাধ্যমেরও বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে যাওয়ার খুব বেশী উপায় নেই। অবস্থা এমন হয়েছে যে, কেউ যদি কোনো অনুষ্ঠান টিভিতে প্রচার করতে চায়, তাহলে হয়তো তাকে শুরুতেই বলা হয় স্পন্সর (বিজ্ঞাপন) নিয়ে আসতে। যথেষ্ট স্পন্সর পাওয়া গেলে গুরুত্বসহ অনুষ্ঠানটি প্রচার হয়। রেডিও, প্রিন্ট বা অনলাইন মিডিয়াতেও একই অবস্থা। দৈনিক পত্রিকার মূল খরচই আসে বিজ্ঞাপন থেকে। এরপরেও বিজ্ঞাপনে অপশব্দের ব্যবহার বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে গণমাধ্যমকেই। ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করেই তাদের এই কাজ করতে হবে।’

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/বিআর/এনআই

- See more at: http://bangla.newsnextbd.com/article176048.nnbd/#sthash.PcqKnT8f.vDpYeoq0.dpuf