Saturday, September 19, 2009

মওলা কে বোঝে তোমার অপার লীলে?...


হিযবুত তাহরির নামক সেই রহস্যময় জেহাদী সংগঠনের ১০ জন সদস্য গতকাল রাজশাহীতে আটক হওয়ার পর আজই দুপুরে তারা ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে সমাবেশ করেছে।

ঘরোয়া রাজনীতির সুযোগে সরকার বিরোধী জেহাদী বক্তব্যও দিয়েছে। একটু আগে টিভি নিউজে সেই নারায়ে তাকবির...ইত্যাদিসহ জেহাদি সংবাদটি দেখে অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিকভাবে মনে পড়লো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে আমেরিকায় ইফতার পার্টি-সংবর্ধনার নামে প্যারোলের শর্ত ভঙ্গ করে রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তখন এই আপাত নিরীহ হিযবুত তাহরির তো অন্তত ঘরোয়া রাজনীতিই করছে!

কিন্তু প্রশ্ন জাগে, রাজশাহীতে সরকার বিরোধী পোস্টার-লিফলেট থাকার অপরাধে হিযবুতের ১০ জন জঙ্গি সন্দেহে আটক হতে পারলে খোদ রাজধানীর বুকে তারা কী ভাবে আবার সরকার বিরোধী সমাবেশ-বক্তৃতাবাজীর সাহস পায়?
এই গত সেপ্টেম্বরেই হিযবুত জেহাদীরা বায়তুল মোকাররমে জরুরি অবস্থার ভেতরেই প্রথম আলো বিরোধী সমাবেশে বড় ধরণের শক্তি-মত্তার প্রদর্শন ঘটিয়েছে। কুশ পুত্তলিকা ইসলামে নিষিদ্ধ কী না ভালো করে জানি না, তাই সে প্রসঙ্গ না হয় থাক, কিন্তু জেনেছি, এ সব সমাবেশে দেদার পুড়েছে ওই পত্রিকার সম্পাদকের কুশ মূর্তি। পর পর এ ধরণের সমাবেশের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তারা কোনো রকম বাধাই দেয়নি। পরে বায়তুল মোকাররমের জেহাদি সমাবেশ কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ঘেরাও করতে গেলে আবশ্য পুলিশ লাটি পেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু সে সময় প্রকাশ্যে জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করার দায়ে এর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কেনো বর্তমান 'সেনা সমর্থিত অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার' কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি?

যৌথ বাহিনী জঙ্গি বিরোধী নানা তৎপরতার দায়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত কেনো পৃথিবীর অন্তত ২০টি দেশে নিষিদ্ধ এই হিযবুতরা এ দেশে বার বার ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে? তারা তো পুলিশের তালিকাভূক্ত জঙ্গি বা সন্দেহভাজন সংগঠনও নয়!

তাহলে কেনো গতকালের রাজশাহী নাটক? আর কেনই বা আজ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের রঙ্গমঞ্চ? ...