Saturday, July 4, 2015

ছবি নিয়ে ফের আলোচনায় সিপি গ্যাং

 
বিপ্লব রহমান, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের সঙ্গে ছবি তুলে ফের আলোচনায় এসেছে বিতর্কিত অনলাইন গ্রুপ সিপি গ্যাং। তবে আশরাফুল আলম খোকন এই গ্রুপটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে চার লাখ টাকা অনুদান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা সিপি গ্যাংয়ের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। যথেচ্ছ গালিগালাজ, কুরুচি ভাষা ব্যবহার ও সাইবার অপরাধের অভিযোগ রয়েছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবিদার গ্রুপটির কাছে অনলাইনে নিগৃহিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধেরই পক্ষের বুদ্ধিজীবী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, নারী সাংবাদিক– এমন নজিরও আছে।

সিপি গ্যাং’র কয়েকজন সদস্যর সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘জন্মদিনসহ কয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ ও প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে ছবি তুলেছে। তাদের সঙ্গে আরো কয়েকজন যুবক ছিল। তারা হয়তো সিপি গ্যাং’র সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, সেটি আমার জানার কথা নয়।’

তিনি বলেন, ‘যারা সিপি গ্যাং’র বিরুদ্ধে লিখছে, তাদের সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক। আমি তাদেরকেও চিনি। আমি আসলে দুই গ্রুপের রেষারেষি’র মাঝখানে পড়েছি। এ বিষয়ে কারো ইন্ধন বা প্ররোচণা থাকতে পারে।’

বেশ কয়েকজন অন লাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফেসবুকে ওইসব ছবি প্রচারের পাশাপাশি সিপি গ্যাংকে ‘অনুদান পাইয়ে দেয়ার’ নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিবের হাত রয়েছে বলে প্রচার করছেন।

এদিকে নানা সময় সাংবাদিক সুপ্রীতি ধর সিপি গ্যাং’র সাইবার সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কন্যাকেও অনলাইনে যৌন নিগৃহ করেছে সিপি গ্যাং’র নেতারা।

ফেসবুক নোটে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুপ্রীতি ধর লেখেন, ‘…এই তো মাত্র কিছুদিন আগেই সিপি গ্যাং এর অন্যতম পৃষ্ঠপোষককের যারপরনাই ‘সহায়তা; ‘অত্যাধুনিক’ ফুলেল ভাষায় আমি রঞ্জিত হয়েছিলাম। এখনও স্ক্রিনশটগুলো জ্বলজ্বল করছে, দেখলেই আমার গা ঘিন ঘিন করে। আমার তথাকথিত কাছের বন্ধুরাও তখন ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতা হারানোর ভয়ে চুপ মেরেছিল। সেই সিপি গ্যাং শুনলাম চার লাখ টাকা অনুমোদন পেয়েছে সরকারের কাছ থেকে। ভাষায় আরো অত্যাধুনিক ডিগ্রি আনার জন্যেই কি! হতে পারে। জয়বাংলা…এভাবেই গড়ে উঠবে ডিজিটাল বাংলাদেশ…।’

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালে ৫ জানুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় গঠিত হয় সিপি গ্যাং গ্রুপ।

গণজাগরণ মঞ্চের সহযোগি ছাত্রদের রুমি স্কোয়াড’ নামক অপর গ্রুপকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছিল সিপি গ্যাং। এছাড়া বিশিষ্ট মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রধান শাহরিয়ার কবিরকে ‘রাজাকার’ বলেও আখ্যা দিয়েছে তারা।

সংসদ ভবন থেকে সেলফি তুলে ফেসবুকে দেয়ায় সিপি গ্যাং’র কটূক্তির মুখে পড়তে হয়েছে খোদ তথ্য ওযোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককেও। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বিয়ে নিয়েও এই গ্রুপ অশালীন মন্তব্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

সিপি গ্যাং’র অনুদান প্রাপ্তির বিষয়ে লেখক ও ব্লগার মাসকাওয়াথ আহসান ফেসবুকে ‘গাবিখা (গালাগালিরবিনিময়ে খাদ্য)’ নামে একটি ব্যাঙ্গাত্মক নোট লিখেছেন।

মাসকাওয়াথ আহসান নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, ‘যে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, তার তথ্য-প্রযুক্তি তহবিল থেকে উদ্ভাবনের জন্য কথিত সিপি গ্যাংকে অনুমোদন দেয়া বিস্ময়কর। কারণ, তারুণ্যের মনে প্রশ্ন জেগেছে, উদ্ভাবন কি? এই সিপি গ্যাং যে ভাবে অনলাইনে নারী নিগৃহ এবং কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছে, তাতে তারা গালাগাল অভিধার সমর্থক। সিপিগ্যাং নামক গালিবাজ সংস্কৃতিকে অনুদান দিয়ে সরকার স্বীকৃতি দেয়ায় তারুণ্য বিভ্রান্ত হবে। নষ্ট হবে সরকারের ভাবমূর্তিও্।’

কোন যোগ্যতা বলে সিপি গ্যাং’কে অনুদান দেওয়া হলো তা জানার জন্য অনেকবার ফোন করে তথ্য ওযোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে পাওয়া যায়নি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চেয়েএসএমএস করেও জবাব মেলেনি। প্রতিমন্ত্রী এপিএস পরিচয়দানকারী জনৈক রণজিৎ ফোন ধরে বলেন, “স্যার, সম্ভবত এ ব্যাপারে কথা বলবেন না। উনি এখন মিটিং-এ আছেন। পরে ফোন করুন।”

সিপি গ্যাং’র সদস্য, ইম্যাথমেকার্স ডটকম’র জিকরুল আহসান সিপি গ্যাং’র অনুদানপ্রাপ্তি নিয়ে কথা বলতেরাজী হননি। উনি বলেন, “সিপি গ্যাং’র প্রধান রাসেল রহমান এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু উনি(রাসেল) টেলিফোন নম্বর বদল করেছেন।”

সিপি গ্যাং’র আরেক সদস্য শ্রাবন মহসিন নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতে পারে। তাঁর সঙ্গে ছবি তোলা মানেই এ নয়যে সম্পর্কটি সাংগঠনিক।”

শ্রাবণ সরকার বলেন, “কিছুদিন আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে অনুদান চেয়ে আবেদন করাহয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চার লাখ টাকা অনুদান পেয়েছি। আমরা নগরীর প্রধান সড়কে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে যানজটের তথ্য সংগ্রহ করবো। আর তৈরি করবো একটি মোবাইল অ্যাপস। এ থেকেযাত্রীরা বুঝতে পারবেন, শহরের কোন কোন পথে যানজট আছে। যানজট এড়াতে তখন তারা বেছে নিতেপারবেন বিকল্প পথ।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ফেসবুকের এক নোটে সিপি গ্যাং’র প্রতি ঈঙ্গিতকরে বলেন, “ইন্টারনেট কি ব্লগ দিয়ে চালায়? – এইরকম ছিল যাদের অবস্থা তারাও এখন ব্লগ শেয়ার করে ।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/বিআর/জাই - See more at: http://bangla.newsnextbd.com/article175874.nnbd/#sthash.lNrrDJ0N.pkyTyBpo.dpuf