Thursday, August 4, 2011

চিম্বুক পাহাড়ে বিপন্ন ম্রো জনপদ


বন বিভাগ আর সেনা বাহিনীর নানান ভূমি অধিগ্রহণে বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাসিন্দা ম্রো জনজাতির অস্তিত্ব এখন হুমকি মুখে। সেনা বাহিনীর অধিগ্রহণের মাত্রাই বেশী।

উচ্ছেদ হতে হতে প্রধানত ম্রো,মারমাসহ চিম্বুক পাহাড়ের আদিবাসী ও স্থায়ী বাঙালিরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। অধিগ্রহণ আর বহিরাগত অভিবাসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে জুম চাষ (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরণের চাষাবাদ)। উজাড় হতে বসা বনে শিকারও বন্ধ বহু বছর।

এ নিয়ে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাবেক কর্মস্থল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ প্রথম প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। সে বার শীতের রাতে সেনা অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছিলো ৭৫০টি ম্রো পরিবার।
 


আর্কাইভ থেকে ওই সংবাদটির চুম্বক অংশ একবার দেখে নেওয়া যাক।

Army drive throws 750 CHT families out of homes

By News EditorPublished: 2006-12-21 18:00:00.0 Updated: 2006-12-21 18:00:00.0

Some 750 indigenous families have been left homeless after an army eviction drive in the remote hilly areas of Bandarban district.Hill district families driven out of their homes have been facing starvation and severe cold for three weeks. >>Read full text of memorandum

Biplob Rahman
bdnews24.com Senior Correspondent

Dhaka, Dec 22 (bdnews24.com) - Some 750 indigenous families have been left homeless after an army eviction drive in the remote hilly areas of Bandarban district.

Hill district families driven out of their homes have been facing starvation and severe cold for three weeks, their leaders said.

An indigenous community leader who did not want to be named told bdnews24.com that many are passing days in starvation or half-fed.

An army spokesman, Lt Col Anisur Rahman Chowdhury, confirmed the eviction drive.

Chittagong Hill Tracts Regional Council chairman Jyotirindra Bhodipriya Larma told bdnews24.com, "The problem was created long ago when the CHT was militarised."

পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর যথেচ্ছ অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদ নিয়ে বহু প্রতিবাদ হয়েছে ও হচ্ছে। [লিংক]

গত বছর ২ নভেম্বর চিম্বুক পাহাড়ে উচ্ছেদকৃত ম্রো আদিবাসীরা এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা। তিনি এতে অভিযোগ করে বলেন, নব্বইয়ের দশকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে সাড়ে ১১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে ছয় হাজার ম্রো আদিবাসী এবং স্থায়ী বাঙালি বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই সব আদিবাসী ও বাঙালি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উচ্ছেদ হতে হতে আদিবাসীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার।...


সে সময় সন্তু লারমার জনসভার ওই সংবাদটির পাশাপাশি আদিবাসী উচ্ছেদের বিষয়ে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন করা হয়েছিল দৈনিক কালের কণ্ঠে।[লিংক] সংবাদটিতে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার রাংলাই ম্রো'র বিরুদ্ধে আইএসপিআর-এর বিষোদগারও স্পষ্ট। বলা ভালো, এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক-এগারোর সময় রাংলাইকে যৌথবাহিনী মিথ্যে মামলায় গ্রেফতার করে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। [লিংক]

গত বছর নতুন করে সংবাদটি তৈরি করতে গিয়ে জুমচাষী ম্রো আদিবাসী নারী-পুরুষ যারই সঙ্গে কথা বলা গেছে, তিনিই বলেছেন, হতাশা আর চরম অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা। এক ফাঁকে মোবাইল ক্যামেরায় বেশ কিছু আদিবাসী জীবনচিত্র ধারণ করা হয়। অন্য অনেক ছবির সঙ্গে এই ম্রো মা ও শিশুটিরও ছবি তোলা হয় সে সময়। দারিদ্রের চিহ্ন সর্বত্র, তবু কি নির্মল এক চিলতে হাসি তরুণী মা'টির মুখে!

এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে [৯ আগস্ট] চিম্বুক পাহাড়ের এই সব বিপন্ন মানুষের ঘরে কী নতুন কোনো বার্তা পৌঁছবে? সাংবিধানিকভাবে তারা তো আবার এখন [উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠি]...
___
ছবি: লেখক, উইকিপিডিয়া [লিংক]।















৪ আগস্ট, ২০১১।