Friday, August 31, 2007

গেরিলা নেতা সত্যবীরকে কুকুরে কামড়াইছে...

আদিবাসী নেতা চলেশ রিছিল যৌথ বাহিনীর হেফাজতে মরিয়া বাঁচিয়াছে। আর বান্দরবানের পাহাড়ি নেতা রাংলাই ম্রো ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইয়া বোধকরি বাঁচিয়া মরিয়াছে। সেদিন কাগজে পড়িলাম, রাঙামাটির আরেক পাহাড়ি নেতা সত্যবীর দেওয়ানকে ১৭ বছর কারাভোগের আদেশ দেওয়া হইয়াছে।

পাহাড়ের সাংবাদিকতরা সুবাদে জানি, সত্যবীর বাবু সাবেক গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনীর দুর্ধর্ষ নেতা ছিলেন। আদিবাসী পাহাড়ি মানুষের অধিকার আদায়ে জীবন বাজি রাখিয়া হাতিয়ার লইয়া ঘুরিয়াছেন বনে -- বাদাড়ে দীর্ঘ দুই দশক। তিনি পাহাড়িদের অধিকার আদায়ে জীবনপাত করিয়াছেন -- এ কথা বলিলেও বোধহয় কম বলা হয়।পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত (২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সাল) হইলে গেরিলা নেতা সত্যবীর অস্ত্র জমা দিয়া স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়া আসেন। দায়িত্ব নেন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদকের। সন্তু লারমা এই দলের সভাপতি।

যৌথ বাহিনী সম্প্রতি গভীর রাতে সত্যবীর দেওয়ানে রাঙামাটির বাসায় অভিযান চালাইয়া তাহার শয়ন কক্ষের বালিশের নীচ হইতে উদ্ধার করে একটি 'অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র'। এখন এই মামলায় তাহাকে ১৭ বছর কারা ভোগ করিতে হইবে।

বোধকরি, ইহার আগে সত্যবীরকে পাগলা কুকুরে কামড়াইয়াছিল।

অন্যথায় যিনি অত্যাধুনিক সয়ংক্রিয় অস্ত্র লাইয়া প্রায় সারা জীবন যুদ্ধ করিলেন, তিনি আবার সেই যুদ্ধ শেষ হইবার প্রায় এক দশক পর চলেশ রিছিলের মৃত্যূ ও রাংলাই ম্রো'র গ্রেফতার হইবার খবর জানিয়াও এই রূপ কাজ কী ভাবে করিতে পারিলেন?

যৌথ বাহিনী যখন অবৈধ অস্ত্রের সন্ধানে পাহাড় ও সমতলে উকুন বাছিবার ন্যায় চিরুনী অভিযান চালাইতেছে, তখন কী রূপে তিনি জল-বন্দুক নয়, একেবারে সত্যকারের অবৈধ অস্ত্র লাইয়া ঘুমাইতেছিলেন??

পাগলা কুকুরে কামড়াইলে বোধকরি এইরূপই হয়! ;)









সত্যবীর দেওয়ান, আপনি সামান্য অক্ষরজীবী এই অধমের অভিনন্দন গ্রহণ করুন। আপনাকে জানাই লাল সালাম।।